চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ-
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শহীদ আবু সাঈদ হলের ক্যান্টিনে পরিবেশিত তেহারিতে ইটের টুকরা পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের অভিযোগের পর বুধবার রাতে ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যান্টিনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের অন্যতম প্রধান নির্ভরতা হল ক্যান্টিন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ক্যান্টিনের তেহারি খাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থী খাবারের মধ্যে ইটের টুকরা পান বলে অভিযোগ করেন। এর আগে খাবারে পোকামাকড়, বস্তার সুতা ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের মান নিয়েও রয়েছে নানা সমস্যা। তাঁদের দাবি, অনেক সময় চিকেন ফ্রাইয়ের ভেতরের অংশ কাঁচা থাকে, নষ্ট আটা দিয়ে পরোটা তৈরি করা হয় এবং অবিক্রীত পরোটা, সিঙারা ও পেঁয়াজি সংরক্ষণ করে পরদিন পুনরায় গরম করে বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি রান্নাঘর ও চা তৈরির স্থানেও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ তাঁদের।
শহীদ আবু সাঈদ হলের শিক্ষার্থী তুসার আহমেদ বলেন, “আমরা প্রতিদিনের খাবারের জন্য ক্যান্টিনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু খাবারের মধ্যে ইটের টুকরা পাওয়া খুবই উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। মানসম্মত ও নিরাপদ খাবারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান চলবে।”
এছাড়া, শিক্ষার্থীরা কিছু দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে – স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা, হল প্রশাসন বা ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর অনুমোদিত মূল্যতালিকা প্রকাশ ও বাস্তবায়ন, রান্নাঘর ও চা তৈরির স্থান সংস্কার, খাবারের মান ও মূল্য নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন।
এ ব্যাপারে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো.আজাদ হোসাইন জানান, “আপাতত ক্যানটিন বন্ধ থাকবে। আমি এটা সরেজমিনে দেখবো। ওদের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ এসেছে। সমস্যাটা কেনো হচ্ছে জিজ্ঞেস করব। খাবারের কোয়ালিটি নিয়ে তো কোনো আপস করা যাবে না। সেগুলো ওরা নিশ্চিত করতে পারলে চালাবে। আপাতত এটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে।”