গোলাম মোস্তফা তানিম:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বিতর্ক সংগঠন ‘চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি’র সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১০ জুলাই চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংগঠনটির সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে, কারণ দর্শানোর নোটিশের প্রেক্ষিতে সংগঠনটি লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করে, যা এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সন্তোষজনক বলে বিবেচনা করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান, নীতিমালা, প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পূর্বানুমোদিত শর্তাবলি যথাযথভাবে মেনে চলার লিখিত অঙ্গীকারও দেয় সংগঠনটি।
এসব বিবেচনায় চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি জারির তারিখ থেকে সংগঠনটি স্বাভাবিক নিয়মে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী সংগঠনকে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান, নীতিমালা, প্রশাসনিক নির্দেশনা ও অনুমতির শর্তাবলি মেনেই পরিচালনা করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, “আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। উক্ত কমিটির মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর চুয়েট ডিএসের বিরুদ্ধে সাময়িকভাবে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করে। কমিটি বিবেচনা করে যে, এটি তাদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ হওয়ায় ক্ষমাশীলতা প্রদর্শন করা যেতে পারে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি কামরুল হাসান বলেন, “কর্তৃপক্ষের সহযোগিতামূলক আচরণের জন্য আমরা তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি আমরা আশা করি ভবিষ্যতে এই ধরনের জাতীয় কর্মসূচির ক্ষেত্রে তারা আরও নমনীয় হবেন। সর্বশেষে বলতে চাই, ভবিষ্যতে আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে এই নিয়মগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব।”