তারপর দেখতে দেখতেই কেটে যায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চারটি বছর, তবে রয়ে যায় গল্পগুলো । কাটখােট্টা প্রকৌশল বিদ্যার প্রাতিষ্ঠানিক শত ব্যাস্ততার মাঝেও সবার মনের গভীরে জায়গা করে নিয়েছে প্রাণের ক্যাম্পাস। গােল চত্বরে চায়ের কাপে ঝড় তােলা আড্ডা, মাঝরাত গীটারের টুংটাং, হেটে হেটে পুরো ক্যাম্পাস চষে বেড়ানা,এক সাথে আন্দোলনে সামিল হওয়া ,বিভিন অনুষ্ঠান, ছুটিতে বন্ধুরা মিলে দূরে কােথাও হারিয়ে যাওয়া সত্যিই এই গল্পগুলা শেষ হবার নয়। এই স্বপ্নময় স্মৃতিগুলোকে আগলে রাখতে গত ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল ১২ ব্যাচের শিক্ষাসমাপনী অনুষ্ঠান “আরামিট গ্রুপ চুয়েট র্যাগ-২০১৭”।
২৭ এপ্রিল সকাল ১০টায় সাদা রংয়ের টিশার্টে ছেয়ে যায় পুরাে গােল চত্বর ,ভুভুজলা আর ঢােলের তালে মুখরিত হয় চারপাশ। মার্কারের কালিতে অঙ্কিত হয় আবেগ জড়ানা কথা।
এর পরই শুরু হয় বর্ণাঢ্য এক র্যালী । ঢাক ,ঢােল আর বাঁশির তালে শ্লােগান দিতে দিতে এগিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা র্যালিটি চুয়েট অডিটারিয়াম থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে গােলচত্তর এসে শেষ হয়। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়য়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম, বক্তব্য দেন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ।
র্যাগের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফ্লাশ মব । তাইতো স্ট্রিট ডান্স ও গানের তালে একদল শিক্ষার্থী মাতিয়ে তোলেন পুরো বাস্কেটবল গ্রাউন্ড ।এর পর শুরু হয়ে যায় রঙের খেলা। রঙ মাখামাখি ,ছাটাছুটি ,হৈ-হুল্লোড়ে মাতে সবাই যেন রঙ মাখামাখির এক বিশাল প্রতিযাগিতা । কিছুক্ষণের মধ্যই লাল ,নীল ,সবুজ রঙের পানি ছিটিয়ে ভৌতিক উল্লাসে মতে উঠেন বিদায়ী শিক্ষার্থীরা ।রঙ মেখে আনন্দের এই দিনটি ভাগাভাগি করতে বড়দের সাথে জুনিয়ররা ও শামিল হয়
জমজমাট সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় কেটেছে শিক্ষা সমাপনীর দ্বিতীয় দিনও । সন্ধ্যায় চুয়েট কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয় । এ অনুষ্ঠানে নানা আয়াজনে মুখরিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা । থেকে থেকে বাজতে থাকে ক্রমান্বয় তথা ১২ ব্যাচের থিম সং। আবৃতি ,মূকাভিনয় , নাটক, নাচ গান , শর্ট ফিল্ম প্রদর্শনী , রম্য বিতর্ক , দলীয় নৃত্য সহ প্রভৃতি অনুষ্ঠান প্রদর্শিত হয় । এ অনুষ্ঠানের একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল বিদায়ী ব্যাচ ক্রমান্বয়ের শিক্ষার্থীদর ফ্যাশন শাে।
অনুষ্ঠানসূচির মূল আকর্ষন ছিল ২৯ তারিখ তৃতীয় দিনের কনসার্ট। বেলা তিনটা থেক শুরু হওয়া এই কনসার্ট সারারাত চলে শেষ হয় পরদিন ভােরবেলা। রাত ১০টায় উড়ানাে হয় ১২ টি ফানুশ এবং দেখানা হয় আগুনরের বাজিখেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আসর জমায় শিরোনামহীন, মেঘদল, আর্বােভাইরাস ,পাওয়ারসার্জ , তীরন্দাজ , স্টােন , ওয়ার্নিং সহ দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্যান্ডদল। চরম উপভােগ্য এই কনসার্টে আর্বাভাইরাসের হারিয়ে যাও গানে সুরের মত সবাই যেন হরিয়েই যায়। শিরোনামহীনের গান দিয় শেষ হয় কনসার্ট।
কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থী জাফরুল হাসান তাজ বলেন , ” বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অনুষ্ঠান সবাইকে এক সাথে কাছে পেয়ে যেমন ভাল লাগা কাজ করছে আবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তির কথা ভেবে খারাপ লাগাও কাজ করছে। সবসময় চাই ভাল থাকুক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষগুলো, ভাল থাকুক ক্রমান্বয়ের সবাই।
পুরকৌশল বিভাগের বিদায়ী ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন “ ১২ ব্যাচ আমার ব্যাচ, আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই ব্যাচের সবাই, যত গল্প সব তাদের ঘিরেই।
