তানবির আহমেদ চৌধুরীঃ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও আওয়ামী-ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা রাষ্ট্রপতিকে আওয়ামিলীগের দোসর আখ্যা দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাঁর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তিনি আওয়ামী খুনি হাসিনাকে পুনর্বাসনের জন্য ষড়যন্ত্র করছেন। এর আগে তিনি নিজ বক্তব্যে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার ব্যাপারে বক্তব্য দিয়েছেন, কিন্তু সম্প্রতি তাঁর কাছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নাই বলে তিনি জানান। তাঁর এই দুই ধরনের বক্তব্যের জন্য তাকে দ্রুততর সময়ে অপসারণ করে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, আমাদের শহীদ ভাইদের রক্তের দাগ এখনো আমাদের অন্তরে লেগে আছে। অথচ বর্তমান রাষ্ট্রপতি সুকৌশলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের মিশনে নেমেছেন। তিনি আওয়ামীলীগের নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি। তাই তাকে দ্রুত এই পদ থেকে অপসারণের মাধ্যমে তাঁর এই মিশনকে ধ্বংস করে দিতে হবে। সেই সাথে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ জুলাই-আগস্টে যে গণহত্যা চালিয়েছে, তাঁর দায়ে তাদেরকে অবশ্যই দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে।
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়েটের সমন্বয়ক মাহাফুজার রহমান মোহাব্বত বলেন, রাষ্ট্রপতি চুপ্পু জাতির সাথে প্রতারণা করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। তাই এ আওয়ামী দোসরকে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ জুলাই এ যে গনহত্যা চালিয়েছে এবং হাজার হাজার ছাত্র জনতাকে আহত করেছে তার দায়ে তাদেরকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তাদেরকে গণহত্যার দায়ে সর্বোচ্চ বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পদত্যাগের পরেও এরা থামে নাই। গত পরশু এরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। দ্রুততম সময়ে এদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় না আনলে এদের অপকর্ম থামানো যাবে না।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যান। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। তবে রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি বলেন, তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়ে কোনো দালিলিক প্রমাণ পাননি এবং পদত্যাগপত্র সংগ্রহে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।