পদত্যাগ ও ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে চুয়েট ছাড়ার সংবাদ ভিত্তিহীন: উপাচার্য

ইবাদ হোসেন:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম পদত্যাগ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আর কখনো ক্যাম্পাসে ফিরবেন না – এমন শর্তে তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের কোনো শর্ত বা পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। বরং অসুস্থতার কারণেই তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক প্রতিবাদলিপিতে এসব কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তাঁর বক্তব্য না নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তা সংশোধন করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।

প্রতিবাদলিপিতে উপাচার্য বলেন, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাঁকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, ভবিষ্যতে আর কখনো ক্যাম্পাসে ফিরবেন না – এমন শর্তে তাঁকে বের হতে দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো সংবাদে তাঁর পদত্যাগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি তিনি দেননি বলে দাবি করেন উপাচার্য।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাস ছাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই সময়ে সেখানে অবস্থানরত আরও কয়েকজনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। প্রায় ১১ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টিও সামনে আসে। এর আগে সোমবার রাতে দুজন অ্যালামনাই সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন, যাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি চিকিৎসক ও সিভিল সার্জনের পরামর্শক্রমে তাঁকেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

নিজের বক্তব্য তুলে ধরে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে যে আমি পদত্যাগ করেছি এবং ভবিষ্যতে কখনো চুয়েট ক্যাম্পাসে পদার্পণ করব না। এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি আমি দিইনি। কারণ, আপনারা জেনে থাকবেন, যখন আমাকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন আসলে আমি কথা বলার মতো অবস্থাতেই ছিলাম না। অসুস্থতার কারণেই আমি ক্যাম্পাস ছেড়েছিলাম। এখনো আমি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি। সুস্থ হয়ে আমি আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করব, ইনশা আল্লাহ।’

প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও বলেন, তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উপেক্ষা করে পদত্যাগ কিংবা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা তাঁর নামে প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য না নিয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, রাষ্ট্র তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করতেই তিনি চট্টগ্রামে এসেছেন। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিশেষ কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন কিংবা দলীয় বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি এখানে আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসার আহ্বান জানান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনা বা ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের অমূল্য শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক কার্যক্রম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি তাদের অ্যালামনাই ছোট ভাই-বোন হিসেবে বিবেচনা করেন বলেও জানান।

প্রতিবাদলিপির শেষাংশে সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যমের প্রতি সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান উপাচার্য। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য ছাড়াই পদত্যাগ ও ক্যাম্পাসে আর কখনো না ফেরার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগের সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সংশোধনের অনুরোধ করেন তিনি।