উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে টানা দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চলমান কর্মবিরতি দুই সপ্তাহে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভা শেষে সেখানে যোগ দেন শিক্ষকরা।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, “আজ আমাদের একটি সাধারণ সভা ছিল। সেখানে আমরা সবাই আমাদের দাবির বিষয়ে একমত হয়েছি। চুয়েটের বাইরে থেকে কাউকে আমরা উপাচার্য হিসেবে চাই না।”

একাডেমিক দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সামনে আমাদের দুর্গাপূজার ছুটি রয়েছে। সংকটের সমাধান না হলে সে সময় পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যে অনেকে মধ্যপর্বের ছুটিতে আছেন, ফলে তাদের একাডেমিক ক্ষতি হচ্ছে না। পরবর্তীতে যাদের ওই সময়ে ছুটি নেওয়ার কথা ছিল, আমরা তখন ক্লাস নিয়ে তাদের একাডেমিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারব বলে আশা করছি।”

চুয়েট কর্মচারী সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের দাবি একটাই - অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা। এ জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সামনে দুর্গাপূজার ছুটি থাকলেও চলমান সংকটের কারণে আমাদের কারও মনে শান্তি নেই। সংকট দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি।”

প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে জরুরি সভা করে পূর্ণ কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি। পরদিন ২৫ সেপ্টেম্বর কর্মকর্তা সমিতির জরুরি সাধারণ সভায়ও সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।