ইবাদ হোসেন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবাসিক হলগুলোতে নতুন ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতির ইন্টারনেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির মধ্যে এই উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত উচ্চশিক্ষা ত্বরান্বিত ও রূপান্তর (হিট) প্রকল্পের আওতায় দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় ব্র্যাকনেট লিমিটেড। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই চুয়েটে স্থাপন করা হচ্ছে নতুন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় ছেলেদের ছয়টি আবাসিক হলের মধ্যে বেশিরভাগ হলগুলোতেই সংযোগ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মেয়েদের তিনটি হলের মধ্যেও ইতিমধ্যে নতুন সংযোগ চালু করা হয়েছে। তবে কাজ চলাকালে কিছু কক্ষ বন্ধ থাকায় কয়েকটি হলে শতভাগ সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ব্র্যাকনেট লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কৌশিক মজুমদার বলেন, “বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কক্ষে ব্যক্তিগত ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিতে কাজ করছি। ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতিগুলো আন্তর্জাতিক মানের। শিক্ষার্থীরা যাতে উচ্চগতির ও নিরাপদ ইন্টারনেট সুবিধা পায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে।”
নতুন সংযোগের সুবিধা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। শামসেন নাহার খান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সেগুফতা সিমিন বলেন, “আগে ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে পড়াশোনা ও বিভিন্ন অনলাইন কাজে সমস্যায় পড়তে হতো। এখন সংযোগের গতি অনেক ভালো। প্রতিটি কক্ষে আলাদা সংযোগ থাকায় ব্যবহারও সুবিধাজনক হয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ১৫ এমবিপিএস গতি পেতাম, এখন প্রায় ৯২ এমবিপিএস পর্যন্ত গতি পাচ্ছি।”
তবে সব শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতা এক নয়। এখনো সংযোগ না পাওয়া হলগুলোর শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মিনহাজুল হাসিব বলেন, “আমাদের হলে এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু হয়নি। ফলে পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে হচ্ছে। প্রতি মাসে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা খরচ করতে হয়, যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য বাড়তি চাপ। অন্য হলগুলো সুবিধা পেলেও আমাদের হলে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।”
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এটি সরাসরি চুয়েটের নিজস্ব প্রকল্প নয়। ফলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বিলম্ব হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বাকি হলগুলোতেও সংযোগ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে। বিশেষ করে ড. কুদরত-ই-খুদা হল ও মুক্তিযোদ্ধা হলে কিছু কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত শেষ হবে।”
উল্লেখ্য, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘আধুনিক নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি ও ওয়াই-ফাই অবকাঠামো স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক তারযুক্ত ও তারবিহীন ইন্টারনেট ব্যবস্থা স্থাপন করছে ব্র্যাকনেট লিমিটেড। এ তালিকায় রয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।