নাজমুল কবির সিয়াম
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর নাব্যতা সংকট, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৯ লাখ মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে হাজার হাজার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয়।
এর আগে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পর এবার কক্সবাজারেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কক্সবাজারের শিক্ষার্থীদের সংগঠন “কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরাম”।
সংগঠনটির উদ্যোগে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর, মানিকপুর ও বরইতলী – এই তিনটি প্রত্যন্ত গ্রামে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রমে চুয়েট শিক্ষার্থীদের ৮ সদস্যের একটি দল সরাসরি অংশগ্রহণ করে দুই দফায় মোট ২২০টি পরিবারের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়। বিতরণকৃত ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, চিড়া, খাবার স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।
এ কার্যক্রম সম্পর্কে সংগঠনের সভাপতি এবং চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম বলেন, “নিজ এলাকার মানুষের এই দুর্দিনে পাশে থাকতে পেরে এবং চুয়েটকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমরা গর্বিত। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাময়িক দুর্ভোগ লাঘবে সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরেছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই উদ্যোগে যারা আর্থিক সহযোগিতা, শ্রম ও দোয়ার মাধ্যমে আমাদের পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। বিশেষভাবে কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরামের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ, যাঁদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা এই কার্যক্রমকে সফল করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগই দুর্যোগ মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
সংগঠনের সহ-সভাপতি এবং চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এহতেশামুল হক বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরামের পক্ষ থেকে আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যারা সহযোগিতা করেছেন এবং সময় ও শ্রম দিয়ে পাশে থেকেছেন, বিশেষ করে আমাদের জুনিয়রদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা আশা করি, সমাজের সব শ্রেণির মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসবেন।”