ফাইয়াজ কৌশিকঃ-
সকাল গড়িয়েছে দুপুরে, দুপুর পেরিয়ে বিকেল—তবু থামেনি বৃষ্টি। আকাশজুড়ে যেন একটানা জলধারা। অবিরাম বর্ষণ আর দমকা বাতাসে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা, ভেঙে পড়েছে গাছ, ব্যাহত হয়েছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ও একাডেমিক কার্যক্রম।
সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও অভ্যন্তরীণ সড়কের পাশে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের মাঠ প্রায় সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও ফুটপাতের পার্থক্য বোঝার উপায় নেই। বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
এদিকে প্রবল বাতাসে উপাচার্য ভবনের সামনের একটি সড়কে বড় একটি গাছ উপড়ে পড়ে। ফলে ওই পথে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ এবং চারপাশে জমে থাকা পানি পুরো এলাকার দুর্ভোগকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকাতেও জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শহর থেকে প্রতিদিন যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা। অনেক এলাকায় সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহনের গতি কমে গেছে, কোথাও কোথাও যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্লাস ও পরীক্ষায়। নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন বিভাগে উপস্থিতির হারও ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এ ব্যাপারে পুরকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দেবজিৎ দাস গুপ্ত বলেন, “শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসতে আজ অনেক কষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে থাকায় যাতায়াত অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন।”
একই বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান নাফি বলেন, “ভারী বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গেছে। হল ও একাডেমিক ভবনের সামনে চলাচল করতেও সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে শহর থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তির মুখে পড়েছে। অনেকেই সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারেনি।”
পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম চুয়েটনিউজ২৪কে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়টি তারা আমাদের জানালে সংশ্লিষ্ট ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় একাডেমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া সড়কে উপড়ে পড়া গাছটি আবহাওয়া অনুকূলে আসলেই দ্রুত সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।”