ইবাদ হোসেন:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইইই ফুটসাল ফিয়েস্তা’। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাহাড়তলির দ্য ড্রিম সিটি টার্ফে দিনব্যাপী এ ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত বিভাগের মোট ১০৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ৯ সদস্যের দল নিয়ে মোট ১২টি দল গঠন করা হয় এবং দলগুলোকে চারটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি দলের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শ্রেণিকক্ষের বাইরের এসব কার্যক্রম শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে আরও আন্তরিক ও দৃঢ় করে তোলে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. নিপু কুমার দাশ, ড. সম্পদ ঘোষ, সহকারী অধ্যাপক ফাহিম মাহমুদ,প্রভাষক সাগর মুৎসুদ্দি, মো. শফিউল ইসলাম জয় ও আজমাল আহমেদ।
রাত ১২টায় শিক্ষক বনাম শিক্ষার্থীদের প্রীতি ম্যাচের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক খেলা শুরু হয়। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়। পরে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় “হাই ভোল্টেজ স্কোয়াড” এবং “মায়ের দোয়া ইলেকট্রনিকস আনইউনাইটেড এফসি”। গ্রুপ পর্বে মোট ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে অংশ নেয় “প্রশাসন ক্যাডার” ও “ইইই স্ক্র্যাপার” দল। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ অমীমাংসিত থাকায় ফল নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের শিরোপা জিতে নেয় “প্রশাসন ক্যাডার”।
প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে ফজরের নামাজের পর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া উপস্থিত থেকে আয়োজন উপভোগ করেন। তিনি বলেন, “তোমাদের এই ফুটসাল প্রতিযোগিতার আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে খেলাধুলার ক্ষেত্রে নিজেদের দিকেও অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।” এছাড়া তিনি ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে খেলাধুলার পরিবেশ আরও উন্নত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফাজ তাজোয়ার জানান, “এই আয়োজন শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য এবং পারস্পরিক সম্মান আরও দৃঢ় করেছে। এই অসাধারণ অভিজ্ঞতার অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত এবং আয়োজকদের প্রতি
কৃতজ্ঞ। ফুটবল খেলাটা যতটা উপভোগ করেছি, তার চেয়েও বেশি উপভোগ করেছি সবাই মিলে একসাথে থাকা, একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া আর প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করা।”
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. উমর কাদের তিতাস বলেন,”এটি শুধু একটি ফুটসাল টুর্নামেন্ট নয়, বরং বিভাগের সকল চলমান বর্ষের শিক্ষার্থীদের একত্রিত করার একটি সুন্দর উদ্যোগ। খেলাধুলার মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব, নেতৃত্ব ও দলগত চেতনা গড়ে তোলাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। সবার আন্তরিক সহযোগিতায় এই আয়োজন সফল হয়েছে, এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছরগুলোতে আরও বড় পরিসরে প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করি।”
সার্বিক আয়োজন সম্পর্কে “হাই ভোল্টেজ” দলের পরিচালক মো. ইসফাক আহমেদ জীম বলেন, “তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ফুটবল ফিয়েস্তার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভাগের সব শিক্ষার্থীকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা এবং তাদের মধ্যে দৃঢ় বন্ধন তৈরি করা। শিক্ষকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ ও উপাচার্যের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও স্মরণীয় করেছে।”
তিনি আরও জানান, আগামী বছরগুলোতে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন মুক্তিযোদ্ধা হলে খেলোয়াড়দের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাটির পুরস্কার প্রদানে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল ‘বর্ণ’।