আসহাব লাবিবঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েট (চুয়েট) প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পর কিছুদূর হাঁটলেই হাতের বাম দিকে দেখা মেলে একটি সেমি পাকা ভবন। এই ভবনেই ছিল শিক্ষার্থীদের খাবার দাবারের জন্যে দুইটি ক্যান্টিন। চুয়েটিয়ানদের কাছে এগুলো ১ নাম্বার ও ২ নাম্বার ক্যান্টিন নামেই পরিচিত ছিল। বাহ্যিকভাবে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে খানিকটা বেমানান অবকাঠামো হলেও এই ২ টি ক্যান্টিনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে হাজারো চুয়েটিয়ানদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের অসংখ্য স্মৃতি। কারো কাছে সকাল-বিকালের নাস্তার জায়গা, কারো কাছে ক্লাসের ফাঁকে দুপুরের খাবার সেরে ফেলার অন্যতম স্থান আবার কারো কাছে বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডার স্বর্গপুরী এই ১ ও ২ নাম্বার ক্যান্টিন।
একটা সময় সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত সবসময় জমজমাট থাকত এই ক্যান্টিনগুলো। সুব্যবস্থাপনা ও সুলভমূল্যে খাবার প্রাপ্তির জন্যে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হয়ে গিয়েছিল এই ক্যান্টিন দুটি। কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়মে যেমন পুরাতনকে প্রতিস্থাপন করতে নতুনের আগমন ঘটে ঠিক তেমনই চুয়েটের ছাত্রশিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়া উদ্ভোদনের পর থেকে ধীরে ধীরে নিষ্প্রাণ হতে শুরু করে এ দুটি ক্যান্টিন। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা কমতে থাকে এবং একসময়ের লোকারণ্য এই ক্যান্টিনদুটি অনেকটাই অবহেলায় পড়ে থাকে। তবুও তুলনামূলক কম দামে খাবার পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী এই ক্যান্টিন দুটির উপরই নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সম্প্রতি পূজার ছুটি কাটিয়ে ফেরত আসার পরে শিক্ষার্থীরা দেখতে পায় সম্পূর্ণরুপে বন্ধ হয়ে গেছে ওদের চিরপরিচিত ১ নাম্বার ও ২ নাম্বার ক্যান্টিন।
এ ব্যাপারে ছাত্রকল্যান দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ১ ও ২ নাম্বার ক্যান্টিনের দালানটি ভেঙে ফেলা হবে। এই জায়গায় কি করা যায় তা নিয়ে আমাদের প্রাথমিক আলাপ হয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা, হাটাচলা করার পথ ইত্যাদি করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর ক্যান্টিনের পাশের দোকানগুলোর জন্যে আমরা ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ভবনের নিচ তলায় রুমের ব্যাবস্থা করেছি। অচিরেই দোকানগুলো সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে।
চুয়েট এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেজর (অবঃ) ফিরোজ খাননুন ফরাজি চুয়েটনিউজ২৪’কে বলেন , আমাদের সময় তো এতো আধুনিক কিছু ছিলনা, এই জায়গাগুলোই আমরা আমাদের সময় কাটাতাম। কিছু কিছু জায়গাকে ধরে রাখা উচিত। চুয়েটের ক্যান্টিনগুলোর জায়গায় যত আধুনিক নির্মানকাজই করা হোক তা আমার কাছে ক্যান্টিনগুলোর মতো পছন্দের হবে না। এখনো চুয়েটে গেলে আমি ক্যান্টিনগুলোতে যাই, বসি। আমিও চাই আধুনিকরণ হোক। তবে একেবারে বন্ধ না করে এখানে নান্দনিক বিভিন্ন কর্ণার, স্টল ইত্যাদি করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
চুয়েটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (‘১৭ ব্যাচ) প্রাক্তন শিক্ষার্থী আশেকুল ইসলাম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, চুয়েটের ক্লাস, ল্যাব, সিটির ধকল শেষে যখন জীবন খুব বিরক্ত লাগত, তখন ২ নং ক্যন্টিনে বিকালের আড্ডায় পুনরায় পরের দিনের লড়াই করে যাওয়ার শক্তি পেতাম। পরীক্ষার সময় এ সারারাত অমানবিক পড়াশুনার পড় ফজরের পর ২নং ক্যান্টিন এর তেহারি অমৃতের মত লাগত। ক্যাম্পাসে হল লাইফ এর পর সব থেকে বেশি ভাল সময় কাটানোর জায়গা এই ২নং ক্যান্টিন। পুনরায় ক্যাম্পাসে গিয়ে এই ক্যান্টিন না দেখতে পেলে খুব খরাপ লাগবে। ৪ বছরের প্রতিটা দিনের সাথেই কোনো না কোনো ভাবে এই ২নং ক্যান্টিন জড়িত ছিল।
উল্লেখ্য, ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রাক্তন এবং বর্তমান চুয়েটিয়ানরা অনেকটাই নাখোশ। নিত্যদিনের প্রয়োজনের পাশাপাশি চুয়েটিয়ানদের প্রশান্তির জায়গা ছিল এ ক্যান্টিন দুটি।