বাংলাদেশ পেল ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের পূর্ণ স্বীকৃতি: চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের নতুন মাইলফলক

নাফিসা নাওয়ার

বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান “ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)” বহুল প্রতীক্ষিত ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড-এর পূর্ণ সিগনেটরি হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

গত ১২ জুন (বুধবার) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যালায়েন্স সম্মেলনে ২৩টি স্বাক্ষরকারী দেশ এই স্বীকৃতি অনুমোদন করেছে। পূর্ণ স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশ। এছাড়াও, ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ইত্যাদিও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। উক্ত সম্মলনে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর পুরকৌশল বিভাগ বাংলাদেশে স্বীকৃত প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে। ইতঃপূর্বে বাংলাদেশ ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের পরীক্ষামূলক স্বীকৃতির মধ্যে ছিল।

বিভিন্ন অ্যাক্রিডিটেশন সংস্থার অ্যাক্রিডিটেশন ক্রাইটেরিয়াগুলোর মধ্যে সমতুল্যতা নিরূপণের জন্য বিশ্বে কয়েকটি সংস্থা আছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড। এর সম্পূর্ণ স্বাক্ষরকারী হওয়া বাংলাদেশ তথা চুয়েটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

বাংলাদেশে ইন্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামগুলোর মান নির্ণয়ের জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো, ২০২৩ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) বোর্ড অব অ্যাক্রিডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বিএইটিই) গঠন করে। দেশে চুয়েটসহ ৫৫টি পাবলিক ও ১০০টির অধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে। যেখানে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একের অধিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম চালু আছে।

বর্তমানে বিএইটিই চুয়েটসহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রোগ্রামগুলোর মান যাচাই এবং স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের নীতি এবং প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করছে। ফলে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রোগ্রামগুলোর মান বৈশ্বিক পর্যায়ে সম্মানিত হবে। যা দেশী-বিদেশী কোম্পানির মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে, উচ্চ-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের উপর আস্থা রাখবে।

এছাড়াও চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের স্নাতকরা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোতে সহজে কাজ করার সুযোগ পাবে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক চাকরির বাজার উন্মুক্ত হবে। পাশাপাশি এই অর্জন চুয়েটের গবেষণা ও সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। বুয়েট, কুয়েট, বাকৃবিসহ দেশের বেশকিছু পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই বিএইটিই-এর তালিকাভুক্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চুয়েটের শুধুমাত্র পুরকৌশল বিভাগ বিএইটিই-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যান্য বিভাগগুলোকে বিএইটিই-এর স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে গ্র্যাজুয়েটদের একটি বড় অংশ উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণা, মাইগ্রেশন, এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।