প্রকৌশলবিশ্ব ডেস্ক:
ভূমিকম্প প্রতিরোধে এবার গবেষকরা উদ্ভাবন করলেন এক নতুন প্রকারের ইট- সিসব্রিক, যা ভূমিকম্পের সময় মূল কাঠামো থেকে দেয়ালগুলো থেকে পৃথক করে এই দুইয়ের মধ্যকার টান কমিয়ে রক্ষা করবে কাঠামোকে। ভ্যালেন্সিয়া পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের(ইউপিভি) কংক্রিট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইসিআইটেক) গবেষকদের উদ্ভাবিত এই ইট একই সাথে কাজ করবে ভূকম্পন পৃথকীকারক(সিসমিক আইসোলেটর) হিসেবেও।
সিসব্রিক তৈরি করা হয়েছে যেন এটি ভূকম্পনের অনুভূমিক ভার এর সাথে সাথে উল্লম্ব ভার বহন করতেও সক্ষম হয়। দেয়াল তৈরিতে ব্যবহারোপযোগী এই ইট খুব সহজেই নির্মাণকাজে ব্যবহার করা যাবে কোনরূপ বিশেষ ব্যবস্থা বা যন্ত্র ছাড়াই।


যদিও বর্তমানে বিশেষ ভূমিকম্পরোধক ইট বাজারে প্রচলিত আছে, যা সিসব্রিককে আলাদা করে তোলে তা হচ্ছে এর ভূমিকম্পের শক্তি শোষণ করার ক্ষমতা। দেয়ালের ভার সরাসরি কাঠামোতে না দিয়ে কাঠামোকে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারবে এই ইট। পাশাপাশি, ভূকম্পনের সময় কাঠামোর বিভিন্ন অংশের অনুভূমিক দোলনও কমিয়ে আনবে সিসব্রিক।
আইসিআইটেক এর একজন গবেষক ফ্রান্সিসকো জেভিয়ার প্যালেরিস বলেন, এখনকার ভূমিকম্পের শক্তি হিসেব করে নকশা প্রণয়ণে স্থাপনার দেয়ালগুলোকে বাদ দিয়ে প্রধান ফ্রেম কাঠামোকেই বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ভূমিকম্পের আঘাতে স্থাপনার সাড়া দেয়ার বিষয়টিতে দেয়ালগুলোর অনেক প্রভাব থাকে বলে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি মনে করেন, সিসব্রিকের ব্যবহারে স্থাপনায় দেয়ালগুলোর এই প্রভাব কোন ঝুঁকি ছাড়াই অগ্রাহ্য করা যাবে।
এই ইটের আরো একটি সুবিধা হল, একটি নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী ব্যবহার করলে অনেক কম পরিমাণে থেকেই সিসব্রিক উল্লেখযোগ্যভাবে ভূমিকম্পের প্রভাব রোধ করতে পারে।
সিসব্রিক প্যাটেন্ট করা হয়েছে ইউপিভি এর নামে। গবেষকদল প্রচলিত ভবন আইন অনুযায়ী ইটটিকে শব্দতরঙ্গ ও তাপ প্রতিরোধক করে তোলার জন্য গবেষণা চালাচ্ছেন। তারা সিসব্রিকের বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনের জন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সন্ধান করছেন।
(সূত্র: Asociación RUVID)
তারিখ: ২৫.১২.২০১৫
