চুয়েটে স্থাপত্য উৎসবে আনন্দের রঙ

সাঈদ চৌধুরীঃ

অনন্য ভাবনা আর সৃষ্টিশীল কাজকে প্রাধান্য দিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(চুয়েট)-এর স্থাপত্য বিভাগের একযুগ পূর্তি উৎসব উদযাপিত হলো।
সেই সাথে বিভাগটি বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট এর স্বীকৃতি লাভ করায় এই বর্ণিল উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।গত বৃহস্পতিবার প্রথম দিনটি শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে।মেয়েদের পরনে শাড়ি, ফেস্টুন,ব্যানার, বাশিসহ ঢোলের বাজনায় বেলা ১১টায় শুরু হয় শোভাযাত্রাটি। এটি কেন্দ্রীয় মিলনায়তন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলচত্বর সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন সিলেটের লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী আজিজুল মাওলা, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন মোহাম্মদ কামরুল হাছান, আর্ক-এশিয়ার সভাপতি আবু সাঈদ এম. আহমেদ, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ফারহানা শারমিন ও নকশাবিদ আর্কিটেক্ট বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার, স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ।এরপর তরুণ স্থপতিদের অনন্য ভাবনায় তৈরী স্থাপত্যের উপর বিভিন্ন প্রদর্শনী ও ম্যাগাজিন উন্মোচন করা হয়।সৃষ্টিশীল কাজের দ্বারা তৈরী প্রজেক্টগুলো দেখতে ভীড় করতে থাকেন আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষার্থীগণ।

ওইদিন বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে স্থাপত্যের উপর এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থাপন করেন আবু সাইদ এম আহমেদ ও বায়েজিদ মাহমুদ খন্দকার। তারা ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর যথেচ্ছ পরিবর্তন করা যাবে না।সেগুলো আগে যে রুপে ব্যবহার হত সে রুপে বা যে নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহৃত হত সে রুপে ফেরত নিতে হবে।

এরপর বিকেল ৫ঃ৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য মোহাম্মদ রফিকুল আলম। স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কানু কুমার দাশের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। চুয়েট উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন,সভ্যতার বিকাশে স্থপতিদের অবদান অনস্বীকার্য। চুয়েট ক্যাম্পাসে সবুজের সমারোহ, পাহাড়-সমতল, লেক ও সব মিলিয়ে জীববৈচিত্র্য সম্মিলন ঘটেছে। এসবকিছু স্থাপত্যশিল্প চর্চার ক্ষেত্রে দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে।

স্থাপত্য উৎসবে বৃহস্পতিবার রাতের আয়োজনে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কন্সার্ট। কন্সার্ট মাতান জনপ্রিয় ব্যান্ড মেঘদল।এছাড়া গত শুক্রবার দ্বিতীয়দিনের আয়োজনে ছিলো প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ, পুরস্কার বিতরণী,উপস্থাপনা ও পিঠা উৎসব প্রভৃতি।