৮ বছরেও শেষ হয়নি মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝের কাজ

সাঈদ চৌধুরীঃ

বছরের পর বছর যায় কিন্তু শেষ হয় না মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝের কাজ।ধুলোয় ভরপুর মেঝের মধ্যেই কাপড় ও পাটি বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ অনেকেই।দীর্ঘ ৮বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) কেন্দ্রীয় মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝে।
চুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল্লাহ জানান,এই মসজিদের দ্বিতীয় তলার কাজ প্রায় ৮বছর আগে শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন দফায় কিছু কিছু করে কাজ আগানো হয়।যেমন জানালা লাগানো,প্লাস্টার করা, ফ্যান লাগানো,রঙ করানো ইত্যাদি করা হয়েছে এই কয়েক বছরে।কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে ফ্লোরের কাজ শেষ করা যায় নি।
তিনি আরও জানান, যে কাজগুলো করা হয়েছে সেগুলোর কিছু পরিমাণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দিয়েছে আর বাকীগুলো ছিলো বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা অনুদান।

এদিকে দ্বিতীয় তলায় উঠার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিলো অস্থায়ী লোহার সিড়ি।সেটিতে উঠতে গিয়ে আঘাতও পেয়েছিলেন অনেকে।অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিছুদিন পূর্বে অস্থায়ী সিড়িটি ভেঙ্গে নতুন সিড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।সেই নতুন সিড়ি নির্মাণ করতেও লেগেছে প্রায় দুইবছর।

এই কেন্দ্রীয় মসজিদ নিয়ে শিক্ষার্থীদেরও রয়েছে নানান অভিযোগ।যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ সিয়াম বলেন, মসজিদের দ্বিতীয় তলার অবস্থা শোচনীয়। আমি ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই এমন খারাপ অবস্থা দেখেছি।বর্তমানে ফ্যান লাগানো ও দেয়ালে প্লাস্টার করে রঙ করা হয়েছে।কিন্তু যেখানে সিজদাহ্ দিব সেই মেঝেই ধুলোবালিতে ভরা।এই কাজ এতবছর ধরে পড়ে আছে কিন্তু তবুও কারও কোনো গরজ নেই।ফান্ডের এতই অভাব যে অন্যান্য মসজিদের মতই বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদেও জুম্মার দিনে দানের টাকা চাইতে হয়।

একই বিভাগের ও বর্ষের শিক্ষার্থী আকিদউজ্জামান আবির বলেন,একটা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ হবে মডেল মসজিদ।সেখানে আমাদেরটা দেখলে মনে হয় কোনোরকম দায়সারাভাবে একটা মসজিদ বানানো হয়েছে।গত জুম্মায় দ্বিতীয় তলায় সাউন্ডও কাজ করছিল না।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বলেন সাকিব রহমান শাওন বলেন,মসজিদে ভালো কোনো ডিজিটাল ঘড়ি নেই।শীতের সময়ে পর্যাপ্ত কার্পেটও থাকে না।নেই ভালো কোনো ওয়াশরুম কিংবা বড় ওযুখানা।

কেন্দ্রীয় মসজিদটির যাবতীয় কাজ এবং মেরামত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রীয় মসজিদের দ্বিতীয় তলার কাজ ২০১৫সালের দিকে শুরু হয়।বিভিন্ন দফায় দফায় এর কাজ করা হয় এবং এখনো চলমান।বাজেট সংকটের কারণে দ্বিতীয় তলার মেঝের টাইলসের কাজ এখন পর্যন্ত করা সম্ভব হয় নি।আপাতত নতুন নির্মিত সিড়ির টাইলস করা হবে।দ্বিতীয় তলার মেঝের টাইলস করার মত টাকা এখন নেই।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেটের অধীনে কেন্দ্রীয় মসজিদ ধরা নেই।তাই বিভিন্ন অনুদান ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রাজস্ব খাত থেকে যে টাকা মাঝেমধ্যে আসে সেটা দিয়ে কাজগুলো করা হয়।