তানবির আহমেদ চৌধুরী:
গত এক মাস ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দিনমজুর, নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে এ যেন এক গলায় আটকানো মাছের কাটা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপরও । দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীই উঠে আসে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। আর এই শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ তাদের পড়ালেখার খরচসহ নিজেদের দৈনন্দিন খরচ যোগায় টিউশন করে ৷ অনেকে আবার নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারেরও দেখভাল করে। সবকিছুর মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বেতন বাড়ছে না টিউশনের। এ অবস্থায় সবদিক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম রেজা বলছিলেন এমনই কথা। তিনি আরও বলেন “হলে সিট না পাওয়ায় থাকতে হচ্ছে মেসে। টিউশনি করে নিজের খরচ চালাই। আগে যেখানে প্রতিবেলা খাবারের মূল্য আসতো ৪০ টাকা, সেখানে এখন গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা। মেস মালিকও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে যাতায়াত খরচ। সবদিক সামাল দেয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।”
চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী আশহার তাহবির জানান, ” দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে খাবারের মান কমেছে হল ডাইনিং, ক্যান্টিনগুলোতে। সেই সাথে বেড়েছে শিক্ষা উপকরণের দাম। এক দিস্তা খাতার দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা। এ অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর।”
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ডাইনিং ফি হয়েছে মাসিক দুই হাজার চারশত টাকা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ায় এই খরচে হলের ডাইনিং পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে ডাইনিং ম্যানেজারদের। চুয়েটের শেখ রাসেল হলের ডাইনিং ম্যানেজার সাদাত হুসাইন বলেন, ”ডাইনিং পরিচালনায় রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছি। গত মাসে যেখানে ব্রয়লার মুরগীর দাম ছিল প্রতি কেজি ১২০-২৫ টাকা, এ মাসে তার দাম ২২০ ছাড়িয়েছে। অন্যান্য সকল জিনিসের দাম আরও বৃদ্ধির দিকে। এ অবস্থায় খাবারের মান ঠিক রেখে ডাইনিং পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। এতে পূর্বনির্ধারিত দামে খাবার বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্যান্টিন মালিকরাও । চুয়েটের ২ নং ক্যান্টিন পরিচালক আবদুর রহিম জানান, ”খাবারের দাম বৃদ্ধি করিনি, তবে অনেক আইটেম বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি খাবারের গুনগত মান ঠিক রাখার।”
হল ডাইনিং ও ক্যান্টিনগুলোতে ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হবে কী না জানতে চাইলে চুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ”বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ বাজেট কমতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় ভর্তুকির ব্যবস্থা করা কঠিন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।”