ঢাবি’তে হিজাব বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে চুয়েটে মানববন্ধন

আসহাব লাবিবঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এম অহিদুজ্জামান চাঁনমিয়া কর্তৃক পর্দাপ্রথা বিরোধী বক্তব্য ও হিজাবী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর শিক্ষার্থীরা। আজ, ০১ সেপ্টেম্বর রোজ শুক্রবার, জুমআর নামাজের পর চুয়েটের সাধারণ মুসলিম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উক্ত কর্মসূচিতে বক্তব্যকালে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ওবায়দুল্লাহ আফজাল বলেন, সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা ভার্সিটি জনগণের সংস্কৃতিকে গ্রহন করবে না এটা হতে পারে না। হিজাব বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের সংস্কৃতি ও অধিকার। আমরা চাই সে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা আরো চাই বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হোক সেটা যে ধর্মেরই হোক না কেন। এ দাবিতেই আজ আমরা এখানে দাড়িয়েছি। জীবাশ্ম জ্বালানী ও খনিজ খনন কৌশল বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব নাঈম বলেন, পর্দা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য একটি ফরয বিধান, পাশাপাশি এটি মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই স্বাধীন দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি প্রত্যেকেরই তার নিজ ধর্ম আর সংস্কৃতি পালন করার পরিপূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই অধিকার যাতে পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়, ভবিষ্যতে কেউ যাতে এতে হস্তক্ষেপ করতে না পাপরে, আর যারা এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে বা করবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেই মূলত আমাদের আজকের এই মানববন্ধন।

পুরকৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আল জাকারিয়া বলেন, বাংলাদেশের মতো একটা অসাম্প্রদায়িক দেশে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করার অধিকার প্রতিটি মানুষের আছে। পর্দা হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া ফরয বিধান ৷ আমরা আজকের সমাবেশের মাধ্যমে সবাইকে এই বার্তা দিতে চাই যে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষকগণ যেন, শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য যে গত মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) ঢাবি অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান চাঁনমিয়া গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে যারা পর্দা করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে বাসায় থেকে পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন । এ ছাড়াও পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০১৯-২০ সেশনের ছাত্রীদের জোর পূর্বক নেকাব খুলে ভাইভা (মৌখিক পরীক্ষা) নেওয়া ও হেনস্থার অভিযোগ উঠে এ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে।