চুয়েটের ক্যাফেটেরিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত খাবার

সাঈদ চৌধুরীঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(চুয়েট) প্রায় তিনবছর পর গত রবিবার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়াটি চালু হয়েছিলো। কিন্তু চালুর পর থেকে পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত খাবার।নির্ধারিত কয়েকটি আইটেম ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না কোনো খাবার।এমন অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ।

সরেজমিনে দেখা যায় গতকাল সোমবার বিকেলে নাস্তার আইটেম শুধু পেয়াজু,ছোলা আর পাস্তা ছিলো।এছাড়া ছিলো মেশিনে তৈরী কফি।মঙ্গলবারেও দেখা গেলো একই দৃশ্য। ক্যাফেটেরিয়ার মেনুতে ১৬২আইটেম উল্লেখ থাকলেও তার ২০শতাংশ খাবারও তৈরী হয় নি গত দুইদিনে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন,ক্যাফেটেরিয়াতে খাবার খেতে এসে ঘুরে যেতে হচ্ছে।হাতেগোনা কয়েকটি আইটেম ছাড়া পাওয়া যাচ্ছে না কিছুই।কোনো সমস্যা থাকলে সেটি আগে সমাধান করে ক্যাফেটেরিয়া চালু করতে পারতো কর্তৃপক্ষ।এত দীর্ঘসময় নিয়ে চালুর পরেও এসব সমস্যা কাম্য নয়।

ক্যাফেটেরিয়া চালুর দিনেও মেনুতে উল্লেখিত ১৬২টি আইটেমের মধ্যে দুপুরে পাওয়া যাচ্ছিল মাত্র ১২-১৩টি আইটেম।এর মধ্যে ছিলো রুপচাঁদা ১০০টাকা, মুরগী ৭০টাকা,কাচ্চি ২৩০টাকা, ভাত প্রতি প্লেট ২০টাকা, রুইমাছ ৬০টাকা, বেগুন ভর্তা ২০টাকা,ঢেড়শ ভাজী ও মাছ ভর্তা প্রতিটি ৩০টাকা,কফি ২০টাকা,সমুচা ১০টাকা, সিংগাড়া ৮টাকা।

তবে গ্যাস সরবরাহের সমস্যার কারণে খাবার তৈরী করতে পারেন নি বলে জানান ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক খায়রুল হোসেন লিটন। তিনি বলেন, গতকাল থেকেই আমাদের প্রায় ১৮জন কর্মী এখানে উপস্থিত ছিলো।কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় ৭টি চুলা ঠিকমতো জ্বলছিলো না।দেখা যাচ্ছে একটি চুলা ঠিকমতো জ্বললে বাকীগুলো জ্বলছে না আর।এর ফলে খাবারও তৈরী করা যাচ্ছে না।সোমবার বিকেলে নান রুটি তৈরীর জন্য আটাও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিলো কিন্তু গ্যাস সমস্যার কারণে সেটিও আর তৈরী করা যায় নি।শিক্ষার্থীরা এসে খাবার কিনতে না পেরে ফেরত যাচ্ছেন অনেকে।শুরুতেই এমন হওয়ায় আমাদের কোম্পানির নামও খারাপ হচ্ছে।আমরা বিষয়টি স্যারদের জানিয়েছিলাম গতকালকেই।স্যাররা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

তবে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে গ্যাস সংকটের কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানান ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সরবরাহের সমস্যার বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরকে জানিয়েছি।তারা প্রয়োজনে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।তবে যেহেতু কেবল চালু হয়েছে ক্যাফেটেরিয়া তাই সবকিছু ঠিকঠাক হতে একটু সময় লাগতে পারে।আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে চুয়েটের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) জন্য ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১৭হাজার ফুট বর্গফুট আয়তনের এ কেন্দ্রের ভেতরে দুটি ভিন্ন তলায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে।তৃতীয় তলায় আছে সভাকক্ষ।২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভবনের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়। ভবনটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা। নির্মাণকাজ তদারক করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর।

নির্মাণের জন্য প্রথম ধাপে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অর্থ দিয়ে ভবনের ভিত্তিকাঠামো নির্মাণ করা হয়।এরপর প্রকল্পের জন্য আর কোনো অর্থ বরাদ্দ না আসায় নির্মাণকাজ আর এগোয়নি। পরবর্তীতে আংশিক বাজেট এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন চুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অর্থায়নে ভবনটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়। নির্মাণকাজ একতলা পর্যন্ত সম্পন্ন করার জন্য সংগঠনটি প্রায় অর্ধ কোটি সমপরিমাণ টাকা অর্থায়ন করে। এরপর নানান জটিলতা পর ২০১৯ সালের শুরু দিকে টিএসসির নির্মাণকাজ শেষ হয়।এরপর ভবনটি কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করে চুয়েটের প্রকৌশল দপ্তর।