চুয়েটে আয়োজিত হলো- জুলাই স্মৃতিসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মোহাম্মদ ইয়াসির আফনান:

চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে জুলাই স্মৃতি সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল ৮ই ডিসেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যা ৫:৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো: মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোঃ মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য বিভাগীয় প্রধান ও বিভিন্ন হলের হল প্রভোস্টগণ।

জুলাই মাসে আত্মত্যাগের উদ্দ্যেশ্য, বিজয়ের প্রাপ্তি, এবং ভবিষ্যত সচেতনতা সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন আগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে বহুমুখী আলোচনাও স্থান পায়। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের উপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয় যেখানে কাওয়ালী গানের আসর ও নাট্যমঞ্চ প্রদর্শিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, চুয়েটসহ দেশের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের সংগ্রাম এবং একতাবদ্ধতার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, একটি জাতি পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি তরুণ সমাজের হাতে। এই আন্দোলনে আমাদের চুয়েটের অসংখ্য শিক্ষার্থী সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অসামান্য অবদান আমাদের গর্বিত করে।

তিনি আরো বলেন,আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা যদি এরকম উদ্দীপ্ত, সচেতন এবং সাহসী থাকে, তবে চুয়েট কেবল এগিয়েই যাবে না বরং আমাদের দেশও একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে। আমাদের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে এবং আগামী প্রজন্মকে সেই মানসিকতা নিয়ে গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চুয়েট এর সমন্বয়ক, পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজার রহমান মোহাব্বত বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিহত, আহত ও জেলে নির্যাতিত ভাইদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। যে স্বাধীনতা আমরা উপভোগ করতেছি তা রক্তের পথ মাড়িয়ে আমরা অর্জন করেছি। তাই এ বিপ্লব, এত ত্যাগ যেন বৃথা না যায়। ছাত্র জনতা যে বৈষম্যহীন সমাজ,বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের জন্য জীবন দিয়েছে আমরা যেন তা বাস্তবায়ন করি। সর্বোপরি শহীদদের এ ত্যাগকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করবো এবং তাদের জন্য দোআ করবো।