চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) গত ২৩ অক্টোবর ব্যায়ামাগার উদ্বোধন করা হয়েছে । ব্যায়ামাগারটিতে বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী করা হলেও শৌচাগারের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
শুরুতে সাপ্তাহিক দিনগুলোতে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সময়ে ব্যায়ামাগার এর সময় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের চাহিদা বিবেচনা করে নারীদের জন্য সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিনে (শুক্রবার এবং শনিবার) দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ব্যায়ামাগার ব্যবহার করার সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ১০টা থেকে ১২টা করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এ ভবনটিতে রয়েছে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ওজনের ডাম্বেলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম এবং পানীয় জলের সুব্যবস্থা। এছাড়া, পোষাক পরিবর্তনের জন্যও রয়েছে আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা যেখানে মেয়েদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে পর্দা এবং আয়নার সুবিধা রাখা হয়েছে।
প্রায় সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও শৌচাগারের কোনো ব্যবস্থা নেই ভাবনটিতে। যা একটি বড় অসুবিধা হিসেবে ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করে আসছেন। শৌচাগারের অভাবে ব্যায়ামাগারে আসা অনেক ব্যবহারকারী, বিশেষত নারী শিক্ষার্থীরা, সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যারা দীর্ঘসময়ে ব্যায়ামাগার এ অনুশীলনে সময় ব্যয় করেন, তাদের সকলেরই চাহিদা দ্রুততম সময়ে শৌচাগারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম কদর বলেন,
প্রয়োজনীয় এটাচড ওয়াশরুম না থাকাটা বেশ বড় একটা সমস্যা হয়ে উঠেছে। জিমনেসিয়াম ব্যবহার পরবর্তী বা ব্যবহার করার সময়েই ওয়াশরুম ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ছেলেদের বাধ্য হয়ে শেখ রাসেল হলের ওয়াশরুমে যেতে হয়।যা বেশ কষ্ট সাপেক্ষ। মেয়েদের জন্য এটা আরো বড় আকারের সমস্যা। কারণ তাদেরকেও তাদের হল পর্যন্ত যেতে হয়, যা তুলনামূলকভাবে অনেক দূরে। সেসব দিক বিবেচনায় এখানে একটি ওয়াশরুম খুবই প্রয়োজন।
এছাড়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিহা আঞ্জুম বলেন, জিমনেসিয়ামের অন্যান্য সুবিধাগুলো ভালো হলেও ওয়াশরুম না থাকায় রিফ্রেশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, ফলস্বরূপ ঘর্মাক্ত অবস্থায় জিম থেকে বের হতে হয় যা যে কারো জন্যই অস্বস্তিকর।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, পুনরায় বাজেট বরাদ্দ করে শৌচাগার ব্যবস্থাপনা সংযুক্তির পরিকল্পনা চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই বাজেট বরাদ্দ হবে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরো জানান, বাজেট বরাদ্দ না হলেও অন্য কোন উপায়ে শৌচাগার ব্যবস্থাপনা সংযুক্তির জন্য প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে নিশ্চিত করেছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।