ডায়রিয়ায় আক্রান্ত চুয়েটের শেখ রাসেল হলের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিকঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শেখ রাসেল হলের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অজানা কারণে ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন তারা।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে উক্ত হলের বেশ কিছু আবাসিক শিক্ষার্থী ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া সংক্রান্ত অসুস্থতায় ভুগছেন। তবে ঠিক কোন কারণে এমন রোগে তারা আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ।
কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, হলে সরবরাহকৃত পানি অস্বাস্থ্যকর এবং এটি অসুস্থতার জন্য দায়ী হতে পারে। ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ করেছেন অনেকে। অস্বাস্থ্যকর খাবারকে উক্ত রোগের জন্য দায়ী করেছেন তারা।

এ সময় উক্ত রোগে আক্রান্ত অত্র হলের দ্বিতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. লোকমান হাকিম বলেন, গত বেশ কিছুদিন যাবত আমি পেটের সমস্যায় ভুগছি। আমি হলের বাইরে খাই না। হলের খাবার কিংবা পানি থেকে এ সমস্যা হতে পারে। হাসপাতালেও যেতে হয়েছে আমাকে।
দ্বিতীয় বর্ষের আরেক ভুক্তভোগী আবাসিক শিক্ষার্থী আহমেদ জুবায়ের হাসিব বলেন, গত কয়েকদিন যাবত এমন অসুস্থতা বোধ করছি। ক্লাসেও যেতে পারি নি দুদিন। পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে। সবাই ধারণা করছে খাবার পানি অথবা ডাইনিংয়ের খাবার থেকে এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ডায়রিয়া বা লুজমোশন জনিত সমস্যায় চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। যার মধ্যে প্রায় সবাই শেখ রাসেল হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থার অবনতি দেখে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এ বিষয়ে মেডিকেল সেন্টারটির সমন্বয়কারী ডাঃ রানী আক্তার চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, আমরা সম্প্রতি বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে ডায়রিয়া জনিত সমস্যায় এখানে আসতে দেখি। এর মধ্যে বেশিরভাগই শেখ রাসেল হলের হওয়ায় বিষয়টি ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তর কে জানানো হয়। এদিকে চীফ ইঞ্জিনিয়ার জানান, চুয়েটের সিউয়েজ লাইনে কোনো ধরনের কোনো সমস্যা নেই। এ পানি থেকে পানিবাহিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আসলে এ ধরনের রোগ হতে পারে খাবার ও পানির সমস্যা থেকে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা উচিত।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, আমরা এই সমস্যার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ডাইনিংয়ের জন্য বরাদ্দকৃত মাছ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, নিজেও ডাইনিংয়ে খেয়ে দেখেছি। আসলে তেমন সন্দেহজনক কিছু পাই নি। তবে এখনও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পানির ট্যাংকিও আবার পরিষ্কার করা হয়েছে। হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদেরকেও চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যাপারে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।