আবারো পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্ক:

ক্লাস- পরীক্ষা সহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা। চাকরির ক্ষেত্র ও একাডেমিক সুযোগ সুবিধায় বিভিন্ন বৈষম্যের অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে আন্দোলন করে আসছে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কোনো সন্তোষজনক সমাধান না পাওয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এ সময় তারা বিভাগের ক্লাসরুম এবং ল্যাব সমূহে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

জানা যায়, ২০১৫ সালে এই বিভাগটি চুয়েটের পুরকৌশল অনুষদের অধীনে পুর ও পানিসম্পদ কৌশল নামে যাত্রা শুরু করে । তবে ৩ বছর পর ২০১৮ সালে বিভাগের নাম এবং ডিগ্রি পরিবর্তন করে পানি সম্পদ কৌশল নাম দেওয়া হয়। ফলে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। তাই এই সমস্যা উত্তরণের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা এক দফা দাবি উত্থাপন করেন।

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত এক দফা দাবি হচ্ছে ‘দ্রুত বিভাগের নাম পূর্বের ন্যায় পুনঃসংস্কার করে পুর ও পানি সম্পদ কৌশল (CWRE) কৌশল করতে হবে এবং পুর ও পানি সম্পদ কৌশল (CWRE) হিসেবে ‘১৯ ব্যাচ থেকে ডিগ্রি প্রদান করতে হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা আলোচনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তবে প্রায় তিনমাস অতিক্রম হয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় পুনরায় তারা একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এ বিষয়ে পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্থ করেছিলো মে মাসের ভিতর সুরাহা করবেন। আমরা শিক্ষার্থীরা এই ধরনের নিরপেক্ষ যাচাই বাছাইকে সাদরে গ্রহণ করেছি। কারণ, আমাদের বিভাগ এবং চাকরির বিষয়ে সংকট দূরীকরণে আমাদের দাবীর যৌক্তিকতা নিয়ে আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু, অবাক করার বিষয় হলো ৩ মাস অতিক্রম করেও কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না প্রশাসন। এছাড়া, কমিটিতে বুয়েট থেকে একজন বিশিষ্ট শিক্ষক ছিলেন, তিনি চুয়েটে এসে সব কিছু করে গেছেন, হঠাৎ করে ঢাকা গিয়ে তিনি কমিটি থেকে অব্যাহতি নিলেন। কি এমন উনার সাথে ঘটেছে সেটা এক রহস্য হয়ে থাকলো৷”

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হীরা দত্ত বলেন, “আমরা শুরু থেকে যৌক্তিক সমাধান চেয়ে এসেছি। প্রশাসনকে সকল ধরনের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু প্রশাসন দিনের পর দিন আমাদের আশাহত করেছে, যার এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলেছে। এর আগেও একবার প্রশাসনের কালক্ষেপণের প্রতিবাদে আমরা একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করলেও প্রশাসনের আশ্বাসে কিছুদিন পরেই ক্লাসে ফিরে যাই। কিন্তু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একদম শেষ পর্যায়ে থাকলেও প্রশাসন প্রায় তিন মাস ধরে কালবিলম্ব করে যা এখনো চলমান। এই দীর্ঘসময় ধরে চলা বৈষম্যের প্রতিবাদে আমরা পুনরায় সকল ব্যাচ যৌক্তিক সমাধান আসা না পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সমাধান চাই।”

এ ব্যাপারে চুয়েটের পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল বলেন, বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে গিয়েছে। এর সমাধানে একটি যাচাই-বাছাই কমিটি করা হয়েছে। কমিটি এর সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলছে, শিক্ষার্থীদের দেয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে কাজ করছে। সবকিছু যাচাই বাছাই করে কমিটি প্রতিবেদন দিবে। কমিটিতে একজন বহিঃসদস্য রয়েছেন। উনার সময়েরও একটা ব্যাপার আছে। কমিটিকে তো কাজের জন্য সময় দিতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের বারবার বুঝানোর চেষ্টা করেছি। গতকালকেও তাদের সাথে আমরা আলোচনা করেছি। তাদেরকে একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেছি। এরপরেও সেগুলো না মেনে যদি কেউ বলে ক্লাস করবে না বলে তাহলে তো আমরা তাদেরকে জোর করে ক্লাস করাতে পারবো না।

বহিঃসদস্যের পদত্যাগের ব্যাপারে তিনি বলেন, বহিঃসদস্য বুয়েটের একজন অধ্যাপক ছিলেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জেনেছি। যেহেতু তিনি কমিটির অভিজ্ঞ সদস্য ছিলেন, তাই উনি পদত্যাগ করাতে প্রতিবেদনের কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে কমিটির বাকী সদস্যরা জানিয়েছেন।