
আসাদুল্লাহ গালিব ও মোঃ ফাহিম রেজা :
আজকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাজ ছিলো ভিন্নরকম। পরিচিত দেয়ালে ঝুলছিল নতুন ব্যানার, শিক্ষার্থীদের সুন্দর সাজসজ্জা। এইসব আয়োজন টেড এক্স চুয়েট কে ঘিরে।
সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ঢুকতেই চোখে পড়লো সাজানো মঞ্চ, পেছনে লাল-সাদা টেড এক্স-এর লোগো। ভেতরে একরাশ কৌতূহল, বাইরে অপেক্ষা বক্তারা কে কী বলবেন, জানা নেই। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—যা বলবে তা হবে উপভোগ্য। তারা শুধু বলবেন না, শোনাবেনও।
আজকে টেড আয়োজনে কেউ করলেন বিজ্ঞানের গভীর আলোচনা, কেউ বললেন পদার্থবিদ্যার কথা, কেউ মহাকাশের, কেউবা আবার নিজেকে হারিয়ে খুঁজে পাওয়ার গল্প। ল্যাব, ক্লাস আর টিউশনের বাইরেও যে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে গল্প, চিন্তা আর স্বপ্নের একটা জায়গা থাকা দরকার সেটির গুরুত্বও বোঝালেন আলোচকরা।
সকাল ১০টায় পর্দা উঠলো টেড এক্স চুয়েট ২০২৫-এর। জমকালো আয়োজনের সূচনা হয় প্রথম বক্তার আবির্ভাবের মাধ্যমে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ আহমেদ নকিব মঞ্চে উঠে শোনালেন মহাজাগতিক ইতিহাসের কথা, আলোচনা করলেন জীবনের অপরিহার্য উপাদান পানি নিয়ে। তাঁর কথায় উঠে আসে পানির বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য। পানির গঠন, ধর্ম এবং ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে আলোচনায় তিনি তুলে ধরেন কিভাবে প্রতিদিন ব্যবহার হওয়া এই সাধারণ জিনিসটি প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বলেন, প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন ছাড়া দেশের টিকে থাকা কঠিন হবে। নিচু কক্ষপথ উপগ্রহ ও ড্রোন প্রযুক্তি জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমি ক্ষয় ও গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। এখনই অবকাঠামো, নীতিমালা ও তরুণদের ওপর বিনিয়োগ দরকার। শিক্ষার্থীদের গবেষণা, প্রতিযোগিতা ও ক্লাবে যুক্ত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। উদ্যোক্তার প্রয়োজন, যারা নিজেরাই সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
র্যানকন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর শাহরিয়ার রিমন বলেন, রিয়েল এস্টেট শুধু মুনাফা নয়, পরিবেশ, মানুষ ও ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারা পরিবেশবান্ধব উপকরণ যেমন বায়ুযোজিত কংক্রিট, সবুজ দেয়াল, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ইত্যাদি ব্যবহার করছে। “মেমোরি ৭১” এই ধরনের পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের উদাহরণ।
চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম আলকপাত করেন ভুমিকম্প বিষয়ে। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে মৃত্যু ঘটে মূলত দুর্বল ও অপরিকল্পিত ভবনের কারণে। চট্টগ্রাম উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় পূর্বাভাস ও সতর্কতা গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাণীদের আচরণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক “শেক এলার্ট” ব্যবস্থার মাধ্যমে আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব।
সচেতনতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রাণহানি কমানো যাবে।
এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর আদনান মান্নান, বসুন্ধরা ক্যামিকাল ইন্ড্রাস্ট্রি লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান জাকারিয়া জালাল। মহাকাশ আলোকচিত্রী জুবায়ের কাউলিন, পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ সজল।
টেড এক্স চুয়েট ২০২৫ এর অন্যতম আয়োজক চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওবায়দুল্লাহ মোহাম্মদ আফজাল বলেন, চুয়েটে টেড এক্স চুয়েট আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। নতুন ভাবনা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং তরুণদের অনুপ্রেরণার এই প্ল্যাটফর্ম চুয়েটের শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আয়োজন সহযোগিতা করা সকল শিক্ষক, সেচ্ছাসেবী এবং অতিথিদের ধন্যবাদ জানাই।
উল্লেখ্য, টেড মূলত একটি গ্লোবাল প্লাটফর্ম যেখানে সৃজনশীল চিন্তার, যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধনকারী, স্বপ্নবাজ মানুষেরা নিজেদের জীবন, অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন এবং নতুন প্রজন্মকে নতুন কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। টেড এক্স চুয়েট হলো টেড কতৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি প্রাটফর্ম যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে টেড ইভেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা রাখে।