বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকদের তালিকায় স্থান পেলেন চুয়েটের চার শিক্ষক

চুয়েটনিউজ২৪.ডেস্ক:

২০২৫ সালের বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চার জন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিশ্বের প্রথম সারির চিকিৎসা ও বিজ্ঞানবিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’র সমন্বিত জরিপের আলোকে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

উক্ত তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত চুয়েট শিক্ষকরা হলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঞা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ আলী ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: মোক্তার হোসাইন এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুমিত মজুমদার।

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঞা ২০০৩ সালে চুয়েট থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগে স্নাতক এবং ২০০৮ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুল থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়াতে ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তার গবেষণামূলক আগ্রহের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি, বিকল্প জ্বালানি, শক্তি রূপান্তর, তাপ স্থানান্তর বৃদ্ধি, এবং তাপীয়-তরল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি গত চারবারও বিশ্বসেরা দুই শতাংশ গবেষণা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষের পর মো. আশরাফ আলী চুয়েট শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন ও পদার্থবিজ্ঞানের কনডেন্সড ম্যাটার শাখায় স্নাতকোত্তর, এমফিল এবং পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তিনি বর্তমানে দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অফ সায়েন্সেস (TWAS) এর অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত অ্যাডভান্সড কম্পিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস গবেষণা ল্যাবরেটরিতে প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৩ সালে তিনি ভৌত বিজ্ঞান বিভাগে জুনিয়র গ্রুপে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি থেকে স্বর্ণপদক পান বলেও জানা যায়।

বর্তমানে মো. আশরাফ আলীর সাইটেশন সংখ্যা ৩৪৬৮ টি।

মো: মোক্তার হোসাইন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশুনা করেন এবং জাপানের ইয়ামানশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পিএইচডি চলাকালীন সময়ে তিনি বাল্ক সিলিকন ক্রিস্টাল গ্রোথ উদ্ভাবন করে তার নামে একটি পেটেন্টও করেন। তার গবেষণার বিষয়ের মধ্যে কনডেন্সড ম্যাটার, শক্তি সংরক্ষক পদার্থের গাঠনিক ধর্ম অন্যতম। মোক্তার হোসাইনের বর্তমান সাইটেশন সংখ্যা ৩২৮৬ টি এবং তিনি প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরাদের এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

সুমিত মজুমদার কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল বিষয়ে পিএইচডি এবং এম.এ.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার গবেষণার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে পরিধানযোগ্য বায়োসেন্সর, বায়োমেডিকেল ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক প্রযুক্তি এবং স্মার্ট টেক্সটাইল। গবেষণা কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি গত তিনবারের মতো এবারও শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

জানা যায়, উক্ত তালিকায় দুটি ধাপে সেরা গবেষক নির্ধারণ করা হয়। এর একটি হল পুরো পেশাগত জীবনের ওপর। আরেকটি শুধু এক বছরের গবেষণা কর্মের ওপর। বিজ্ঞানীদের প্রকাশনার মান, এইচ-ইনডেক্স, সাইটেশন ও অন্যান্য সূচক বিশ্লেষণ করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়। ২২টি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র এবং ১৭৪টি উপক্ষেত্র বিবেচনা করে স্ট্যান্ডার্ড সায়েন্স-মেট্রিক্স শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী এবছর মোট ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩১৪ জন গবেষককে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চুয়েট শিক্ষকদের এই অর্জনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও চুয়েটের জন্য এটি একটি গর্বের বিষয়। আমাদের শিক্ষকরা তুলনামূলক কম সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করেও বিশ্বসেরাদের তালিকায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন তা সত্যিই আনন্দের। আমাদের আরো উন্নতির জায়গা রয়েছে। আমরা চাই চুয়েটের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা গবেষণায় আরো অনেক এগিয়ে যান।

উল্লেখ্য, স্ট্যানফোর্ড–এলসেভিয়ার টপ ২% বিজ্ঞানীদের তালিকা হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এক মানদণ্ড, যেখানে গবেষকদের অসাধারণ উদ্ধৃতি প্রভাব (citation impact) এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে স্থান দেওয়া হয়। এলসেভিয়ার প্রতিবছর প্রায় ২ হাজারের বেশি জার্নাল প্রকাশ করে। প্রকাশিত জার্নালে নিবন্ধের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি এবং এর আর্কাইভে ৭০ লাখের বেশি প্রকাশনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *