গোলাম মোস্তফা তানিমঃ
৩ দফা দাবি আদায় ও ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলমান প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন কর্মসূচীর সাথে একাত্মতা পোষণ করে আবারও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার (২৫শে আগস্ট) বেলা ১২ টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা জানান, ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীরা দশম গ্রেডে শতভাগ কোটা দখল করে রেখেছে। পাশাপাশি অবৈধ পদোন্নতি নিয়ে নবম গ্রেডের একটা বড় অংশে ঢুকে পড়ছেন ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারীরা যা শুধুমাত্র বিএসসি প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত। এই অতিরিক্ত সুবিধা ও কোটা থাকার কারণে বিএসসি প্রকৌশলীদের চাকরির সুযোগ সীমিত হচ্ছে।
তাঁরা আরও বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পদোন্নতির মাধ্যমে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা বিসিএস ক্যাডার হয়ে যাচ্ছেন।যা দেশের অগ্রযাত্রার জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।
এ ব্যাপারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার মাহমুদ বলেন, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের তিন দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশের সকল ক্যাম্পাসের ন্যায় চুয়েটের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট , এই উত্থাপিত তিনদফার বাস্তবায়ন এবং ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যে কর্মসূচি পালিত হয়েছে এই আন্দোলন আমাদের প্রকৌশলীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন। এই আন্দোলন আমাদের অস্তিত্বের আন্দোলন। আমরা চুয়েটের শিক্ষার্থীরা আমাদের ন্যায্য আধিকার আদায়ে আপোষ করবো নাহ। ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের অযৌক্তিক সাত দফার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দৃঢ। আজকের আন্দোলনে আমাদের শিক্ষকেরা এবং ডিএসডব্লিউ মহোদয় তাদের বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে আন্দোলনকে বেগবান করেছেন। আমাদের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না ইনশাআল্লাহ।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হৃদয় মাছুম মিরাজ বলেন , যোগ্যতা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে তার জায়গায় বসানো না গেলে কোনো দেশ বা জাতি কখনোই এগিয়ে যেতে পারে না। অধিকতর বা উচ্চতর যোগ্যতা কারো অযোগ্যতা হতে পারে না। একজন লেকচারারের পদে যদি ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রি প্রয়োজন হয়, তবে কোনো প্রার্থী যদি পিএইচডি ডিগ্রিধারী হয়ে সেই পদে আবেদন করেন, সেটি বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে সহকারী প্রকৌশলী পদ, যা প্রকৃতপক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত, সেখানে বিএসসি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায় না। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের কোন ঘাটতি আছে যে তারা উপসহকারী প্রকৌশল পদে আবেদন করতে পারছে না? তাদের কারিকুলামে এমন কোন ঘাটতি রয়েছে যা তাদের অযোগ্য প্রমাণ করে? এই প্রশ্নের জবাব রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানরা এই উপসহকারী প্রকৌশল পদে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে পদোন্নতির মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার হচ্ছেন। অথচ এটি মূলত একটি ব্যবস্থাপক পদ, যেখানে শুধু অভিজ্ঞতা নয় শিক্ষাগত যোগ্যতারও প্রয়োজন আছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চাকরি ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের বৈষম্যের প্রতিবাদে আন্দোলন করে আসছে চুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন -সহকারী প্রকৌশলী পদে (নবম গ্রেড) ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিএসসি নির্ধারণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ, দশম গ্রেডকে কোটামুক্ত রেখে বিএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা এবং প্রকৃত বিএসসি ডিগ্রিধারী ছাড়া কাউকে যেন ‘প্রকৌশলী’ উপাধি ব্যবহার করতে না দেওয়া।