অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অকাল মৃত্যুতে প্রতীকি গায়েবানা জানাজা চুয়েট শিক্ষার্থীদের

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে আজ ঢাকার শাহবাগে জড়ো হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে । পুলিশের লাঠি চার্জে আহত হয় অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মতে এই হামলার দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও । হাজার শিক্ষার্থীদের জীবনের বিনিময়ে গঠিত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এরূপ আচরণকে এই সরকারের অকাল মৃত্যু হিসেবে মনে করছে শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদস্বরূপ প্রতীকি গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেছে চুয়েট শিক্ষার্থীরা। 

আজ বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর ২ নং গেট সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয় চুয়েট শিক্ষার্থী। চুয়েট ছাড়াও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অনেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠিত হয় এই গায়েবানা জানাজা। 

এই বিষয়ে চুয়েটের পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থী  আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ইন্টেরিম সরকারের পুলিশ আজ যেভাবে হামলা চালিয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আজ শাহবাগে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থী ছাড়াও চুয়েটিয়ানদের উপর হামলা করা হয়েছে।  ইন্টেরিম সরকারকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এর জবাব দিতে হবে।

এসময় তারা তাদের নতুন করে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিসমূহ হলো – ১. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে প্রকৌশল আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উপর বর্বরোচিত এবং ন্যাক্কারজনক হামলার জন্য আন্দোলনকারীদের সামনে এসে উপস্থিত হয়ে উক্ত ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে এবং জবাবদিহি করতে হবে, ২. প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইতিপূর্বে গঠিত কমিটিকে প্রতিনিধিত্বের অনুপযুক্ত মনে করা হচ্ছে এবং উক্ত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। অনতিবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিসহ প্রকৌশল আন্দোলনের স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়ে কমিটি সংস্কার করে পেশকৃত তিন দফা দাবিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেনে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে এবং এ মর্মে সংশ্লিষ্ট তিন উপদেষ্টা জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জনাব আদিলুর রহমান এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে আজকে এসে এর নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে, ৩. হামলায় আহত সকল শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে এবং উক্ত আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সকল শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ দিয়ে এই যৌক্তিক  আন্দোলনে আর কোনো প্রকার হামলা করা যাবে না,  ৪. প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকন-এর উপর হামলাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চাকুরি থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং ৫. শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে হামলার জন্য ডিসি মাসুদকে বহিষ্কার করতে হবে।