চুয়েটে রেজিস্ট্রেশন কপির ফি; রশিদ ছাড়াই বছরে নেওয়া হয় প্রায় দশ লক্ষ টাকা

ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিকঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) রশিদ ছাড়াই বিভিন্ন বিভাগে প্রতি টার্মে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, কোর্স রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিভিন্ন খাতে অর্থ পরিশোধের পরও এর প্রিন্টেড কপি জমাদানের সময় নিজ বিভাগে আলাদা করে অর্থ জমা দিতে হয়। কিন্তু এ অর্থ পরিশোধের কোনো রশিদ বা প্রমাণপত্র দেয়া হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা যায়, চুয়েটের ১২ টি বিভাগের মধ্যে ১০ টি বিভাগে ১০০-১৫০ টাকা আদায় করা হয়। তবে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে এমন কোনো অর্থ জমা নেয়া হয় না বলে জানা যায়। ম্যাটেরিয়ালস ও মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এ অর্থ জমা নেয়া হয় এডমিট কার্ড জমাদানের সময়। অন্যদিকে, মেকাট্রনিক্স ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং যন্ত্রকৌশল বিভাগে ১৫০ টাকা আর বাকি বিভাগ সমূহে ১০০ টাকা করে জমা নেয়া হয়।

হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি টার্মে ১০০ টাকা করে দশটি বিভাগের মধ্যে পুরকৌশলের ১৩২, তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশলের ১৮২, পানি সম্পদ কৌশলের ৩০, কম্পিউটার ও বিজ্ঞান কৌশলের ১৩২, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৬০, স্থাপত্যের ২৫ ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৩০, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৩০, ম্যাটেরিয়ালস ও মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩০ জন হলে সর্বমোট ৬৫১ জন শিক্ষার্থী জমা দিচ্ছে পয়ষট্টি হাজার একশত টাকা। ১৫০ টাকা করে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ১৮২ এবং মেকাট্রনিক্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩০ জনের কাছ থেকে নিচ্ছে প্রায় একত্রিশ হাজার আটশত টাকা। সেই হিসাবে, একটি ব্যাচে প্রতি টার্মে সর্বমোট নেয়া হচ্ছে প্রায় ছিয়ানব্বই হাজার নয়শত টাকা। পাঁচটি ব্যাচে নেয়া হচ্ছে চার লক্ষ চুরাশি হাজার পাঁচশত টাকা। এক বছরে, পাঁচটি ব্যাচে দুটি টার্মে নেয়া হচ্ছে মোট নয় লক্ষ ঊন সত্তর হাজার টাকা।

কিন্তু বিপরীতে আদায়কৃত এই অতিরিক্ত অর্থের কোনো রশিদ বা প্রমাণপত্র না দেয়ায়, উক্ত অর্থ আদায়ের ব্যাপারে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, প্রতিবারই রেজিস্ট্রেশনের পর যে টাকাটা নেয়া হয়, সেটার কোনো রশিদ দেয়া হয় না। এ ব্যাপারে আমরা তেমন কিছু জানিও না। সেজন্য এই অর্থের কোথায় কিভাবে ব্যয় হচ্ছে তা নিয়ে অনেকের মনেই বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে। যদি রিসিটের ব্যবস্থা করা হতো, তবে আমরা একটা স্বচ্ছ ধারণা পেতাম।

অর্থ আদায়ের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল ভুইঞা চুয়েটনিউজ২৪কে জানান, এ অর্থ শিক্ষার্থীদের জন্যই ব্যয় করা হয়। আমাদের অনুষদের যে এসোসিয়েশন আছে তাতে এ অর্থ জমা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন খাতে যেমন- টুর্নামেন্ট, কোনো প্রোগ্রাম বা খাওয়াদাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় এ থেকে। অফিশিয়াল কোনো কাজে এ অর্থ ব্যয় হয় না। অবশ্যই ছাত্রদের এ ব্যাপারে জানার অধিকার আছে। তাদেরই অর্থ, কোথায় কিভাবে ব্যয় হচ্ছে জানতেই পারে।

কম্পিউটার ও বিজ্ঞান কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর বলেন, একজন শিক্ষার্থী যখন ভর্তি হয়, তার পেছনে অনেক খরচ হয়। কেউ কি চিন্তা করে এগুলো কোথা থেকে আসে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, যে আন্ডার গ্র‍্যাজুয়েট হ্যান্ডবুক দেয়া হয়, ওটার খরচই ২০০ টাকার উপরে। তবে, আসলে কোন কোন খাতে খরচ হয় এটা একটু আমার খোঁজ নিয়ে তারপর বলতে হবে।

আদায়কৃত অর্থ প্রদানের পর শিক্ষার্থীদের কোনো রশিদ প্রদান করা হয় না। এর যৌক্তিকতার প্রশ্নে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, রশিদ ব্যাতীত এভাবে অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করি। আমি সদ্য জয়েন করেছি। ইতোমধ্যেই আমি মিটিংয়ে এ নিয়ে কথা বলেছি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদেরকে একাউন্ট নম্বর দিয়ে দেয়া হবে। তারা নিজেরাই ব্যাংকে এ অর্থ জমা দিবে, ব্যাংক থেকেই রশিদ নিতে পারবে।