জারীন তাসমীন সাবাঃ
হঠাৎ একটি মেসেজ আসল। ও প্রান্ত থেকে জানানো হলো আপনি জিতেছেন লটারি। একাউন্টে ঢুকেছে লক্ষ টাকা। আপনি তো খুশিতে আত্মহারা। জানানো হলো এ টাকা পেতে হলে আপনাকে করতে হবে রেজিস্ট্রেশন। আর তার জন্য দিতে হবে কিছু রেজিস্ট্রেশন ফি। আপনি খুশি মনে তা দিয়ে দিলেন। কিন্তু সেই দিলেন তো দিলেনই। এর পর আর পাত্তা নেই। লটারি তো দূর। আপনার পকেট থেকে খোয়া গেল তথাকথিত রেজিস্ট্রেশন ফির টাকাটাও।
আরো ভয়ানক ব্যাওয়ার হলো, চমকপ্রদ এই বার্তাগুলোর ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে বসেন। আর তারপর শুরু হয় সর্বনাশ। কখনো ব্যাংকের টাকা উধাও হয়ে যায়, কখনো বিকাশ একাউন্ট খালি হয়ে যায়, কখনো বা ইমেইল হ্যাক হয়ে যায়। ফোনকলের পাশাপাশি মূলত এসব করা হয় প্রতারণামূলক বার্তা বা স্প্যামের মাধ্যমে, যার অপর নাম ফিশিং।
এই প্রতারণা থেকে বাঁচাতেই এক তরুণ এনেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা। তিনি তৈরি করেছেন এক বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার, যা এইসব মেসেজ ও ইমেইল শনাক্ত করতে পারবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগেই ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা যাবে, যাতে কেউ ঠকানোর ফাঁদে না পড়ে। এমনকি এই সফটওয়্যার পড়ে ফেলতে পারবে পুরো ইমেইল বা বার্তার ভেতরের ছলচাতুরি, বুঝতে পারবে কোনটা বিপজ্জনক।
এমন গবেষণা দেখা গেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(চুয়েট) অনুষ্ঠিত ‘সাইব্লিটজ ১.০’ নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী গবেষণা উৎসবে। আজ, ২৫ জুলাই (শুক্রবার) আন্তর্জাতিক প্রকৌশল সংগঠন আইইইই কর্তৃক আয়োজিত এই গবেষণা ভিত্তিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় । শিক্ষার্থী পরিচালিত এই অনুষ্ঠান ছিল উদ্ভাবনী চিন্তার প্রকাশভূমি।
এতে অংশ নিয়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শতাধিক তরুণ গবেষক, যারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য ও গণিতভিত্তিক ছয়টি বিষয়ের ওপর কাজ করেছেন। প্রতিটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়েছে নির্দিষ্ট দুটি পদ্ধতিতে। মাত্র তিন মিনিটে সম্পূর্ণ গবেষণা তুলে ধরা এবং দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে পোস্টার উপস্থাপন।
কেউ ব্যাখ্যা করেছেন পরিবেশবান্ধব ভবনের নকশা, কেউ দেখিয়েছেন কীভাবে ট্রাফিক জ্যাম কমানো যায়, আবার কেউ এনেছেন নতুন কোনো প্রযুক্তি, যা জীবনকে সহজ করবে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী নাজিয়াত বিনতে হারুন চুয়েট নিউজ২৪ কে বলেন, আমরা কাজ করেছি বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক নিয়ে, যা সাধারণ প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমায়। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আমরা এমন একটি সমাধান খুঁজেছি যা পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই। তবে এসব বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক ও পরিবেশের উপর প্রভাব রাখছে। তাই আমরা সবুজ জ্বালানি ও সবুজ জ্বালানিভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি।
আইইইই, চুয়েট শাখার সভাপতি আসিফ মিরাজ বলেন, চুয়েট এবং চুয়েটের বাইরের অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই গবেষণা নিয়ে প্রচুর আগ্রহ খেয়াল করা যাচ্ছে। কিন্তু এই গবেষনা পত্র প্রকাশ করার আগে তার রিভিও পাওয়ার জন্য যথেস্ট পরিমাণ প্লাটফর্মের অভাব রয়েছে। সে চিন্তা থেকেই আমাদের এমন আয়োজন। এছাড়া আইইইই একটি টেকনিক্যাল ক্লাব। আমাদের আমার পক্ষ থেকে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো মানিয়ে চলার চেষ্টা করি। আমাদের লক্ষ্য থাকবে শিক্ষার্থীদের গবেষণা পত্র প্রকাশ রিভিও এসবে প্রকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। রুয়েট, কুয়েট সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়েছে। ৫০০ এর অধিক অংশগ্রহণকারী রয়েছে। তাছাড়া পোস্টার প্রেজেন্টেশন সেগনেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাগুলোকেও আমরা উদ্বুদ্ধ করছি।