চুয়েটে পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 মো: ফাহিম রেজা:

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত দুর্ঘটনা—মিরপুর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির অগ্নিকাণ্ড, টঙ্গী কেমিক্যাল গুদামে আগুন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড—আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং প্রক্রিয়াগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এখন আর কোনো বিকল্প নয়; বরং শিল্পখাতের টিকে থাকার পূর্বশর্ত।

শিল্পকারখানার নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব ও কম স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে প্রক্রিয়া পরিচালনার আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি শেখাতে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগ।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় আজ (২০ নভেম্বর) চুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা (EHS) এবং প্রক্রিয়া নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মশালা ২০২৫” শীর্ষক কর্মশালা। সকাল পৌনে নয়টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের মেকানিক্যাল অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আফজালুর রহমান, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, জাতীয় কর্মশালার আহ্বায়ক ও PME বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন-উর-রশীদসহ অনেকে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন “যত্রতত্র শিল্পকারখানা স্থাপনের কারণে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম ঘটছে। আমরা উন্নয়ন করছি, কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি করে। সবমিলিয়ে বলা যায়, আমরা সন্তান জন্ম দিচ্ছি কিন্তু তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারছি না। সবক্ষেত্রেই নিরাপত্তা হলো বড় নিয়ামক। আজকের এই সেমিনার ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমিক ধারণার আদান–প্রদান করবে।”

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন “পরিবেশগত দূষণের কারণে আজ অপমৃত্যু ঘটছে। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি রোধে এই কর্মশালা একটি কার্যকর উদ্যোগ। জ্ঞান আদান–প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে পিএমই  বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন “সারাদেশের নানা প্রান্ত থেকে যারা এসেছেন সবাইকে ধন্যবাদ। নিরাপত্তা (Safety) শব্দটি ছোট হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষ ও প্রাণীর অপমৃত্যু রোধে সরকারের উচিত প্রতি উপজেলায় নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় টেকনিক্যাল সেশন। এ পর্বে সাতজন বক্তা সাতটি টেকনিক্যাল বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তারা ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান,

কর্ণফুলী সার কোম্পানি প্রকৌশলী মো. জাহিদুল হক,সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা 

প্রণব কুমার সাহা, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদ হোসাইন,এসকেএস বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশিউদ দুজা, মায়ের্কস বাংলাদেশের প্রধান, স্বাস্থ্য–নিরাপত্তা–সুরক্ষা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মো.জাহেদ আল কারিম, আইওটিএ বাংলাদেশ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। সর্বশেষ সংক্ষিপ্ত পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সদস্য (পেট্রোলিয়াম) অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া।

কর্মশালায় প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে দেশের সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪ জন শিক্ষার্থী এবং ৩১টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৫৭ জন পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন।
সবশেষে সন্ধ্যায় সার্টিফিকেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *