জারীন তাসমীন সাবাঃ-
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়র (চুয়েট) আজকের সকালটা যেন অন্য রকম ব্যস্ততায় ভরা। ক্যাম্পাস জুড়ে উৎসবের আমেজ, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) ভবন থেকে বেরিয়ে আসছে রঙিন ব্যানার আর উদ্দীপ্ত মুখের এক বর্ণাঢ্য র্যালি। গন্তব্য—কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে। লক্ষ্য—দেশের জ্বালানি খাতকে টেকসই, নিরাপদ ও স্বনির্ভর করার পথ খুঁজে পাওয়া।
পাহাড়ঘেরা এই ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের এক প্রখর সকালে যখন শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে মুখরিত হলো টেকসই শক্তির প্রত্যয়, দেশের জ্বালানি খাত যেন এক নতুন সম্ভাবনার ডাক। কারণ আজ (বুধবার) অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী জাতীয় সেমিনার— “জ্বালানি নিরাপত্তা: পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং প্রেক্ষিত”।
সকালে পিএমই ভবন থেকে শুরু হওয়া রঙিন র্যালি যেন ছিল এক প্রতীকী যাত্রা—অজানার দিকে, সম্ভাবনার দিকে। শত শিক্ষার্থীর মুখে ছিল জ্বালানি স্বাধীনতার প্রত্যাশা।
র্যালি শেষ হলো চুয়েটের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে, যেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিলিত হলেন দেশের খ্যাতনামা শক্তিবিদ, শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএমই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।
প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিন উল আহসান।বিশেষ অতিথি চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আবদুল মতিন ভূঁইয়া।
উপাচার্য বলেন, আজকের পৃথিবী শুধু খনিজে সীমাবদ্ধ নয়। শক্তির নতুন উৎসের খোঁজে থাকতে হবে পরিবেশের সঙ্গে হাতে রেখে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা হোক গবেষণার অগ্রদূত।
অনুষ্ঠানে এমএমই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আফজালুর রহমান বলেন, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পঁচিশ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিভাগ চালু করা হয়েছে এবং নিয়মিত হালনাগাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সেমিনার শিক্ষার্থীদের চিন্তাজগতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীরুল হাসান বলেন, তেল আমদানি ও এর বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের দেশেই থেকে কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে এই খাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেমন চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন নির্মাণ এবং অটোমেশন সিস্টেম প্রবর্তন।
যমুনা অয়েল কোম্পানির পরিচালক মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, দেশের নব্বই শতাংশ জ্বালানির কার্যক্রম চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক, তাই এখান থেকেই পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে। শিল্পে গোপনীয়তা বজায় রেখেই কাজ করতে হবে এবং কর ছাড় ও পুরস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে উৎসাহিত করতে হবে।
বক্তব্য পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস ব্লেন্ডারস পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহিদুল আলম, পদ্মা অয়েল পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মফিজুর রহমান, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ শরীফ হাসনাত, এলপিজিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কুদরাত-ই-এলাহী।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএমই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস ইকবাল আশিক চুয়েটনিউজ২৪ কে তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, এই জাতীয় সেমিনারে অংশ নিতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং খাতের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি জানতে পারা এবং দেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ আমাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এ ধরনের আয়োজন আমাদের বাস্তবমুখী জ্ঞান ও ক্যারিয়ার গঠনে দারুণভাবে সহায়তা করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
উল্লেখ্য, সেমিনারের দ্বিতীয় অংশে দিনব্যাপী চলবে বিভিন্ন মূল প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা। যেখানে দেশের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতের জ্বালানি সম্ভাবনা, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন। শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন কোম্পানির তথ্যকেন্দ্রও থাকবে, যেখানে তারা সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবে এবং নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের জন্য।