টানা দ্বিতীয়বারের মতো কেএসআরএম অ্যাওয়ার্ডে প্রথম স্থান অধিকার করলো চুয়েট

মোহাম্মদ ইয়াসির আফনান

তরুণ স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহ শ্রেষ্ঠ থিসিসকে স্বীকৃতি দিতে অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে কেএসআরএম। এবারের তাদের ৬ষ্ঠ আয়োজনে স্থাপত্য বিভাগের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত আল ইব্রাহিম প্রথম স্থান অধিকার করেছে । এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রথম স্থান অধিকার করল চুয়েট।এছাড়া স্থাপত্য বিভাগের খন্দকার মাহাতি বিশেষ পুরস্কার অর্জন করেন। সর্বমোট ১৫ টি আইএবি [ বা স্থ ই ] স্বীকৃত স্কুল অফ আর্কিটেকচার থেকে ৪৪ টি থিসিস এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

গত শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ স্থাপত্য ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক ও জনপথ এবং সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এছাড়া কেএসআরএম ফিউচার আর্কিটেক্টস অ্যাওয়ার্ডের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন সাহিরা সারওয়াত (আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ- এআইইউবি) এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন বাঁধন দাশ (এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি)।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর স্থপতি সাকিব আহসান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আইএবি সহসাধারণ সম্পাদক স্থপতি ড. মো. নওরোজ ফাতেমী, সম্পাদক (শিক্ষা) স্থপতি ড. মো. মারুফ হোসেন, সম্পাদক (প্রকাশনা ও প্রচার) স্থপতি মো. শফিউল আযম শামীম, কেএসআরএমের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম, উপ-মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক, নাজমুল হুদা, আলী কবির, উপ-ব্যবস্থাপক সৈয়দ তানভীরুল হাসান, ব্যবস্থাপক সাইফ মাওলা, প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজান উল হক, মিথুন বড়ুয়া, মো. মুন রহমান মুন্নাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুরস্কারপ্রাপ্ত রিফাত আল ইব্রাহিমের থিসিসের বিষয় ছিল “প্লাস্টিক ওয়েস্ট মেটামরফোসিসঃ এ ইউনিফাইড কমপ্লেক্স ফর প্লাস্টিক ওয়েস্ট রিসাইক্লিং”। তিনি অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন ,আমি যখন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, তখন সর্বপ্রথম আমার বিশ্ববিদ্যালয় এর মাহির অরিত্র ভাই এবং নাসিফ সাদমান মুহি ভাই এই পুরস্কারে পুরস্কৃত হন। অতঃপর গতবার ফাহিম আসহাব ফারুকি ভাই যখন প্রথম এই পুরস্কার পান। তাদের থিসিস দেখে আমি খুব অনুপ্রাণিত হতাম। তাদের থিসিস দেখে মনে করতাম এরকম কাজ একজন মানুষের পক্ষে করা কিভাবে সম্ভব। অতঃপর আমার থিসিস যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত হল আমি খুশি হয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন, সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করতাম যেন আমার থিসিসটি তার উপযুক্ত মর্যাদা পায়। এক এক করে যখন কম্যান্ডেসন এওয়ার্ড থেকে ২য় পুরস্কার পর্যন্ত ঘোষণা করা হয় এবং আমার থিসিস তখনও ঘোষিত হয়নি, আমি মনে করেছিলাম আমি হয়ত পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হইনি। এটাই হয়ত আমার থিসিসের উপযুক্ত প্রাপ্তি। কিন্তু যখনি প্রথম পুরস্কারে আমার থিসিসের শিরনামটি ঘোষিত হল, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমি দেখলাম আমার মা খুশিতে কাদতে কাদতে হাত তালি দিচ্ছেন, আমার বিভাগিয় প্রধান গৌরবের হাশি হাসছেন।

উল্লেখ্য, বিজয়ীদের স্টুডিও শিক্ষক ছিলেন অত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ সজল চৌধুরী ও রেজুয়ানা ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *