দেশি-বিদেশী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের উৎসবে মেতে উঠল চুয়েট

ফাইয়াজ কৌশিক ও গোলাম মোস্তফা তানিমঃ

ব্যস্ত নগরীর কোনো এক প্রান্তে, শান্ত-নিভৃত ফাঁকা ঘরে বাস করে এক যুবক। একাকীত্ব যেন তাকে গ্রাস করে নীরব প্রশ্ন আর আকাঙ্খার মাধ্যমে। নিজের ছিন্নভিন্ন জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখার তার খুব ইচ্ছা। নিজস্ব সত্ত্বাকে আবিস্কার করতে একদিন সে নিয়ে আসে এক আয়না।

কিন্তু যখন সে গভীরভাবে উপলব্ধি করে, সে দেখতে পায় আয়নাটি আসলে ভাঙা। অথচ ভাঙা এই আয়নার টুকরাগুলো একসাথে আবদ্ধ। সে বুঝতে পারে, আয়নাটি যেন তারই মতন। তার অপূর্ণ ইচ্ছা, অপ্রকাশিত কামনা, অতি গোপনীয় অনুভূতি আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া আশা-নিরাশার জীবন যেন এই আয়নাটিরই প্রতিচ্ছবি। যুবক ছেলেটি এই একাকীত্ব জীবনে পায় এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সে একা নয়, প্রকৃতিও তার মত করে বহু ভাঙা সত্ত্বাকে জোড়া দিয়ে রেখেছে। ভাঙা গড়াই তো প্রকৃতির নিয়ম।

গত ২৬ শে আগস্ট(মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হয় এক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব। আয়না ও যুবকের এই গল্পটি মূলত রাহি আব্দুল্লাহর “My lonely good wishes” নামক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের; যা প্রদর্শিত হয় চুয়েট অডিটোরিয়ামে। বাংলাদেশি এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ছাড়াও এতে দেখানো হয় জাপান, চীন, হাঙ্গেরি, শ্রীলঙ্কা, কোরিয়া ভিয়েটনামসহ বিশ্বের নানা দেশের নাট্যকার ও শিল্পীদের অভিনয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো।

বৈশ্বিক এ উৎসবটি আয়োজিত হয় চুয়েটের সাংস্কৃতিক সংগঠন জয়ধ্বনির উদ্যোগে। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত “১৬তম ইন্টারন্যাশনাল ইন্টার ইউনিভার্সিটি শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (IIUSFF)” এর অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় এই উৎসবের।

এসময় যেন এ অডিটোরিয়ামটি রূপ নেয় ছোটখাটো এক সিনেমা হলে। আর দর্শকসারিতে বসে শিক্ষার্থীরা উপভোগ করেন বিশ্বজুড়ে নির্মিত “At the Edge of the World” , “Accepting death” এর মতো অনন্য সব গল্প।

জানা যায়, বিশ্বের ৭০টি দেশ থেকে পাঠানো ১,৪৩৮টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে থেকে নির্বাচিত সেরা ২৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয় উৎসবে। এর মধ্যে বাংলাদেশেরও দুটি চলচ্চিত্র জায়গা করে নেয়। বিকাল ৪টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলতে থাকে এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উৎসব।

এই উৎসবের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ রাজ চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে চলচ্চিত্র দেখার অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা হয়েছে। চলচ্চিত্রগুলো ছিল গভীর ভাবনার ছিল। ভিন্ন ভিন্ন ভাষার হলেও দৃশ্যগুলো দেখে উপভোগ করার চেষ্টা করেছি। খুব ভালো একটা সময় কেটেছে।

জয়ধ্বনির সভাপতি চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব চৌধুরী বলেন, জয়ধ্বনি, চুয়েট বরাবরই সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চাকে প্রচার করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শর্ট ফিল্ম উৎসব এর অংশ হিসাবে আমাদের জয়ধ্বনি, চুয়েট এর সহযোগীতায় এ ক্যাম্পাসে আয়োজিত হয় এই প্রদর্শনী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বানানো শর্ট ফিল্ম গুলো চুয়েটেই বসে সবাইকে সাথে নিয়ে দেখতে পেরে চমৎকার লেগেছে। দর্শকরাও এই আয়োজনটি খুবই উপভোগ করেছেন।