ফাঁকা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যর্থতা ; চুয়েটে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি

চুয়েটনিউজ ২৪ ডেস্ক :

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তিনটি ভিন্ন শাখায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজি (আইইটি),  বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল শাখা এবং  ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি) শাখার গবেষণাগার, একাডেমিক ভবন ও জেনারেটর কক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত সামগ্রী চুরি হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ঈদের বন্ধ কালীন সময়ের মধ্যেই এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো তাদের চুরি হওয়া যন্ত্রপাতির তালিকা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে। সব মিলিয়ে তিনটি শাখা থেকে চুরি হওয়া মালামালের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইন্সটিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজি (আইইটি) থেকে একটি বম ক্যালোরিমিটার, তিনটি ব্যাটারি, দুটি পাইরোনোমিটার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক তার, বায়োডিজেলের স্যাম্পল এবং একটি টুল বক্সসহ নানা যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ১১ থেকে ১২ লক্ষ টাকা।

অন্যদিকে, একাডেমিক ভবন-০৩ ও ০৫-এর বিভিন্ন তলার পানির লাইনের পাইপ, ভাল্ব, ফ্লেক্সিবল সংযোগসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে ভবন দুটিতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এছাড়া বিডিরেন কর্তৃক স্থাপিত জেনারেটর রুম থেকেও চুরি হয়েছে বিভিন্ন মালামাল। এর মধ্যে রয়েছে ১১ কেভি আরএম কেবল (৪৮ মিটার), ১২ ভোল্ট ৮০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি (২টি), একটি সম্পূর্ণ এটিএস সেটআপ, জেনারেটর গ্রাউন্ডিং কেবল, ব্যাটারি সংযোগ কেবল, পিট গ্রাউন্ডিং কেবলসহ বিভিন্ন তার ও যন্ত্রাংশ। এসব চুরিকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। 

এই বিষয়ে আইইটি এর পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এই ধরনের চুরির ঘটনা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি হয়েছে। আমার মতে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা দরকার, ভবনগুলোর চারপাশে রাস্তা, পর্যাপ্ত লাইটিং এবং সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা দরকার। নিরাপত্তার কাজে দায়িত্বে পর্যাপ্ত  আনসার এবং  নিয়মিত টহলহের ব্যবস্থা করা হলে সামনের দিকে এই ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।”

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আশুতোষ সাহা জানায়, ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাস ফাঁকা থাকায় নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে ঘটনাগুলো তদন্তে  জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। থানায় সাধারন ডায়েরি করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন  এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।