ফাইয়াজ কৌশিক এবং জারীন তাসমীন সাবা:
শরীরচর্চা ও সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি মানসম্পন্ন শরীরচর্চা কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে এক বছর আগে নির্মিত একমাত্র শরীরচর্চা কেন্দ্রটি বেশ কিছু সমস্যার কারণে ব্যবহারকারীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয় চুয়েটের এই শরীরচর্চা কেন্দ্রটির। তবে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এতে রয়ে গেছে নানা অব্যবস্থাপনা। শরীরচর্চা কেন্দ্রের প্রবেশপথে নেই পাঁকা রাস্তা, যার ফলে ঘাসের মাঠ পেরিয়ে ঢুকতে হয় ব্যবহারকারীদের। অল্প বৃষ্টিতে জমে যায় পানি। ভোগান্তি পৌঁছায় চরমে। এছাড়া প্রশিক্ষক না থাকায় রয়েছে যেকোনো সময় শারিরীক দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা। ভুল ব্যবহারের কারণে নষ্টও হচ্ছে যন্ত্রপাতি। কিছুদিন আগে ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থা করা হলেও এখনও নির্মাণ করা হয়নি শৌচাগার। এতে সবচেয়ে বেশি ভূক্তভোগী হন নারী শিক্ষার্থীরা।
শৌচাগারের অভাব ও শরীরচর্চা কেন্দ্রটির সামনে রাস্তার অভাবে ভোগান্তির ব্যাপারে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম নুজহাত জাহিন। তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন শরীরচর্চা কেন্দ্রটিতে যাই। এর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এতে শৌচাগার নেই। এছাড়াও এতে যথেষ্ট ফ্যান নেই। আর এখানে আসার জন্য ঘাসের মাঠ পেরিয়ে আসতে হয়। অল্প বৃষ্টিতে পানি জমলে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। দ্রুত এই সমস্যাগুলো সমাধান হওয়া দরকার। কর্তৃপক্ষের উচিত এসব সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা, তা না হলে শরীরচর্চা কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ সফল হবে না।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল হাসনাত পিয়াস চুয়েটনিউজ২৪কে বলেন, উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও এখনও এতে কোনো প্রশিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় নি। যার ফলে নিজে থেকে ব্যায়াম করতে গিয়ে অনেকে ভুল ব্যায়াম করেন। এতে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। প্রয়োজনে প্রশাসন চাইলে ছাত্রদের মধ্য থেকেও অভিজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দিতে পারে। নিরাপত্তা আর সঠিক গাইডলাইন দুটোই নিশ্চিত হওয়া দরকার।
এসব সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. আবু মোয়াজ্জেম হোসেইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, শরীরচর্চা কেন্দ্রের পাশে নতুন হলের রাস্তার কাজ হচ্ছে। এই কাজটি শেষ হলেই শরীরচর্চা কেন্দ্রের জন্য রাস্তার কাজ ধরা হবে। আর এর পরেই শৌচাগারের কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যেই ড্রেসিংরুম করা হয়েছে। আর আমাদের শরীরচর্চা কেন্দ্রটি এমনিতে যন্ত্রপাতির দিক থেকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ বলা যায়। এটি করা হয়েছিল মূলত শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত কিছু বেসিক ব্যায়ামের ব্যবস্থা করার জন্য। কেউ যদি পেশাদারভাবে শরীরগঠন করতে চায়, তাকে আলাদা আলাদাভাবে ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক রাখতে হবে। আমরা অস্থায়ীভাবে দু-একদিনের জন্য প্রশিক্ষক আনতে পারি শেখানোর জন্য। তবে আমাদের পক্ষে এভাবে নিয়মিত প্রশিক্ষক নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা পরবর্তী সিন্ডিকেট মিটিংয়ের পর সহায়ক নিয়োগের ব্যবস্থা করছি। যন্ত্রপাতি দেখভাল করার কাজ তিনিই করবেন।
উল্লেখ্য নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় ২ বছর পর চালু হয় চুয়েটের এই শরীরচর্চা কেন্দ্র৷ কেনা হয় মানসম্মত ব্যায়ামসামগ্রীও। কিন্তু, এই সমস্যাগুলোর কারণে এখন পর্যন্ত এর পরিপূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না ব্যবহারকারীরা। পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও। তাই এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপ আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।