চুয়েটনিউজ২৪ডেস্ক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান নিখোঁজ হয়েছেন। তিনি হবিগঞ্জের বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নিখোঁজের পরিবার টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬:৩০ টার সময় টঙ্গী স্টেশন রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকা তিনি নিখোঁজ হন । নিখোঁজের সময় তার পরনে ছিল পাঞ্জাবি-পায়জামা । এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
মফিজুর রহমানের শ্যালক মাহবুবুর রহমান বলেন, “পিডিবির একটি প্রশিক্ষণ এ প্রশিক্ষক হিসেবে অংশ নিতে তিনি ১৫ নভেম্বর হবিগঞ্জ থেকে ডেমরা(শ্বশুর বাড়ি) আসেন। ঘটনার দিন তিনি গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রশিক্ষণ শেষে সন্ধ্যায় মতিঝিলে অবস্থিত পিডিবি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা দেখতে পাই তিনি আসলে টঙ্গী থেকে না, বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেন। তিনি সন্ধ্যা ৬ টায় তার স্ত্রীকে ফোন করে বিকাশ থেকে একটি ওটিপি গেলে সেটি দিতে বলেন এবং ডেমরায় ফিরতে দেরি হবে বলে জানান । পরবর্তীতে রাত সাড়ে আটটার দিকে ভুক্তভোগীকে দিয়ে তার দুই সহকর্মীকে ফোন করে ৩ লাখ টাকা এবং এক বন্ধুর কাছ থেকে ২ লাখ টাকাসহ মোট ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় অপরাধী চক্র।”
মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, মফিজুর তার বন্ধু থেকে দুই লাখ টাকা চাইলে সেই বন্ধুর সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তখন ওই বন্ধু মফিজুর এর সাথে ভিডিও কলে যোগাযোগ করে। এসময় তিনি দেখতে পান ভুক্তভোগী সাদা দেয়ালের সামনে গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় আছেন। এতে তার বন্ধু ভাবেন উনি হয়তো বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর তিনি তাকে ২ লাখ টাকা পাঠান। টাকা ট্রান্সফারের পর থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে রাত ১টার দিকে তার কর্মস্থলে যোগাযোগ করলে মফিজুর অফিসে আসেননি বলে জানান তারা । এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার ভোর ৫ টায় মতিঝিল থানায় এসে পুলিশকে ঘটনা বর্ণনা করেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গি থানার উপ পরিদর্শক মো. বায়েজীদ নেওয়াজ বলেন, “আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। ডিবি, র্যাব এবং পুলিশ মিলে মোট চারটি টিম এ কাজ করছি আমরা। এর বেশি কোনো তথ্য আমরা আপাতত শেয়ার করতে চাচ্ছি না।”