চুয়েটে শুরু হয়েছে আন্তঃহল ফুটবল প্রতিযোগিতা

আসাদুল্লাহ গালিব:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের আয়োজনে শুরু হয়েছে “আন্তঃহল ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৫”। গত ১৪ মে (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে শহীদ আবু সাঈদ হলের প্রতিপক্ষ ছিলো কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্র আবাসিক হল অংশ নিচ্ছে। হলগুলো হলো- কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল, ড. কুদরত-ই-খুদা হল, শহীদ তারেক হুদা হল এবং শহীদ আবু সাইদ হল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে আরও জানা যায়, প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য চূড়ান্ত খেলা ২৯ মে (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দুই দল।

যন্ত্রকৌশল তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জামশেদ আলম বলেন, গত বছর আমাদের দল আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার সেই একই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো আমি নিজে মাঠে নামার সুযোগ পেলাম। এতদিন গ্যালারি থেকে চিৎকার করে উৎসাহ দিলেও, এবার যখন নিজে দলের অংশ হয়ে মাঠে খেললাম, তখন অনুভূতিটা একেবারে আলাদা ছিল। গায়ে দলীয় জার্সি, মাথায় জয়ের স্বপ্ন আর বুক ভরা গর্ব—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা সত্যিই স্মরণীয়। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই টিমের প্রতি একটা দায়িত্ববোধ জন্ম নেয়, আর সেই দায়িত্ব পালন করতে পারার মধ্যেই ছিল এক অসাধারণ আনন্দ। এই অভিজ্ঞতা সারাজীবন আমার মনে গেঁথে থাকবে। সর্বোপরি এই ধরনের খেলায় প্রতিযোগীতা থাকলেও দিনশেষে আমাদের শারিরীক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো প্রভাব ফেলে, আমাদের পারষ্পরিক সম্পর্ক আরো মজবুত করে।

এ বিষয়ে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু মোয়াজ্জেম হোসেন চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, “ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগটি খুবই প্রশংসনীয়। খেলাধূলার মাঝে থাকলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরতের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তির চাহিদাও পূরণ হয়। এছাড়াও লেখাপড়ার যে চাপ থাকে তাদের উপর সেই ক্লান্তি এবং একঘেয়েমি দূর করার জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা প্রয়োজন। প্রতিযোগিতাটি খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শকরাও উপভোগ করছে, অসংখ্য দর্শক উপস্থিত হচ্ছে খেলা দেখার জন্যে। এটি তাদের মনকে উৎফুল্ল করতে এবং পড়ালেখায় আরও বেশি মনোনিবেশ করতে সহায়ক হবে বলে মনে করি।”

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরণের ক্রীড়ার আয়োজন শিক্ষার্থীদের সহ-পাঠ্য কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা বাড়ায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা গড়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *