চুয়েটে ফুটবলে যুদ্ধে রাজার মুকুট শহীদ আবু সাঈদ হলের

ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিকঃ

মাঠের চারপাশ জুড়ে দর্শকদের হই-হুল্লোড়। চলছে একের পর এক স্লেজিং। বারপোস্টে দেয়ালের মতন দাঁড়িয়ে আছেন এক দানব। লেভ ইয়াসীনের আত্মা ভর করেছে তার শরীরে। ট্রাইব্রেকারে একের পর এক ফিরিয়ে দিচ্ছেন আচমকা শট। উত্তেজনা ছুঁয়ে যাচ্ছে দর্শকদের মাঝে। চিৎকারে ফেঁটে উঠছে পুরো ক্যাম্পাস। গতকাল অস্তনামা বিকেলে চুয়েটের সেন্ট্রাল ফিল্ড যেন পরিণত হয়েছিল এক যুদ্ধক্ষেত্রে। নাটকীয় পেনাল্টিতে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এ যুদ্ধে টানা দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে হয় শহীদ আবু সাঈদ হল।

গত ২০ শে মে (বৃহস্পতিবার) বিকাল পাঁচটায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) সেন্ট্রাল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হয় আন্তঃহল ফুটবলের ফাইনাল। যেখানে মুখোমুখি হয় দুই চির প্রতিদন্দ্বী শহীদ আবু সাঈদ হল ও কাজী নজরুল ইসলাম হল। সদ্য নাম পরিবর্তন হওয়া এই দুটো হল পূর্বে অনুষ্ঠিত টানা দুটি চ্যাম্পিয়ানশীপেও ফাইনালে উঠে। যেখানে একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এবার এই ফাইনালটি ছিল নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে দুদল। মুহুর্মুহু আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে ফাইনাল ম্যাচ। ম্যাচে বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগ আসলেও দুদলই ব্যর্থ হয় তা কাজে লাগাতে। অতিরিক্ত সময়েও গোল না পাওয়ায় খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। এসময় কাজী নজরুল ইসলাম হলের খেলোয়াড়রা ট্রাই ব্রেকারে গোল করতে ব্যর্থ হন। এবং শহীদ আবু সাঈদ হলের গোলকিপার কাওসার মাহমুদ শিশির দুটি শট ফিরিয়ে দিলে ২-০ ব্যবধানে ম্যাচে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ-প্রধান শারীরিক শিক্ষা কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন।

উপাচার্য বলেন, ছাত্র জীবনে আমিও খেলাধুলা করতাম। ফুটবলে আমি মূলত রক্ষণভাগে খেলতাম। খেলায় হার-জিত থাকবেই, তবে অংশগ্রহণ করাটাই বড়। চুয়েটে এমন একটি আয়োজনে তোমরা সবাই সহযোগিতা করেছ, সুষ্ঠু ভাবে সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে, এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

চ্যাম্পিয়ন দল শহীদ আবু সাঈদ হলের অধিনায়ক মিফতাউজ্জামান তার অনুভূতি চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, আলহামদুলিল্লাহ, চ্যম্পিয়ন হয়ে অবশ্যই আনন্দিত। চুয়েট জীবন এর শেষ ম্যাচ আন্তঃ হল ফাইনাল এবং সেই ফাইনাল ম্যাচটা জেতা, এর থেকে ভালো বিদায় আর হতেই পারে না। পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের হলের খেলোয়াড়রা খুবই ভালো খেলেছে। আমাদের শিক্ষকরাও খুবই সাপোর্টিভ ছিলেন পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই।

উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন ওয়ালিউল্লাহ রাকিব। সেরা গোলকিপার হন রাতুল হাসান পারভেজ। ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হন মিফতাউজ্জামান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *