
চুয়েটনিউজ ২৪ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর অটোমোটিভ অ্যান্ড মোবিলিটি সোসাইটি -এর উদ্যোগে আজ ২৭ জুন (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে অটোমোবাইল বিষয়ক কর্মশালা “ডাইভ টু অটোমোবাইল ৩.০” । সকাল ৯টায় শুরু হয়ে এই কর্মশালা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। অটোমোবাইলের শিক্ষার্থীদের কে আগ্রহী করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই কর্মশালার আয়োজন।
তৃতীয় বারের মতো আয়োজিত এই কর্মশালায় মূলত আলোচনা হয় আধুনিক অটোমোবাইল সিস্টেম, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে। এতে চুয়েটের অটোমোবাইল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞগণ কর্মশালা পরিচালনা করেন। এতে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।
কর্মশালার শুরুতেই যন্ত্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক প্রতীক চন্দ্র ঘোষ অটোমোবাইলসের মূল বিষয় ও খুঁটিনাটি দিক তুলে ধরেন। এরপর অধ্যাপক ড. মোঃ আবু মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রভাষক আবদুল্লাহ আল রিফাত এবং সহকারী অধ্যাপক তাফসিরুল হাসান পর্যায়ক্রমে যানবাহনের ট্রান্সমিশন, নকশা ও ডায়নামিকস এবং বায়ো-ফুয়েল প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন।
শিল্পখাতের অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আফতাব অটোমোবিলসের সিনিয়র ব্যবস্থাপক শাহেদ খান, পি অ্যান্ড এ মোটরসের সিইও অমিত দাস এবং পিএইচপি ফ্যামিলির সিনিয়র ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম। তাঁরা শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ইভি প্রযুক্তি, স্পন্সরশিপ, যোগাযোগ দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মূল্যবান আলোচনা করেন।
চুয়েট অটোমোটিভ অ্যান্ড মোবিলিটি সোসাইটি-এর প্রধান উপদেষ্টা, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “প্রায় প্রতিবছরই শিক্ষার্থীরা এই ধরনের আয়োজন করে। এবারের আয়োজনে অনেকগুলো বিষয়ের উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথেও যেন পরিচিতি বাড়ে। এজন্যই আমরা তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করতে পেরেছি। আশা করি, এই ধরনের কর্মশালা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের অটোমোবাইল খাতে আগ্রহী করে তুলবে।”
আয়োজন বিষয়ে চুয়েট অটোমোটিভ অ্যান্ড মোবিলিটি সোসাইটি-এর সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান ওয়াসিফ তানিম বলেন, “অন্যান্য বছর এই কর্মশালাটি আমাদের সংগঠনের সাবেক সদস্যবৃন্দ পরিচালনা করতেন, কিন্তু এবার আমরা কিছুটা পরিবর্তন এনেছি।
তিনি আরোও বলেন, এখানে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সমন্বয় শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। তাত্ত্বিক বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থাপন করেছেন এবং শিল্পভিত্তিক অংশ পরিচালনা করেছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।এই কর্মশালার আরেকটি বিশেষ উদ্দেশ্য হলো, কর্মশালা শেষে একটি পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং এতে ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের আমাদের বিশেষ প্রকল্প ‘বিজয় ৭১’-এর সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হবে।”
উল্লেখ্য এটি তাদের তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত কর্মশালা ছিল।