সৃজনশীল উৎসব ও আবেগঘন বিদায়ে চুয়েটে উদযাপিত হলো “বিএমই বিটস ২০২৫”

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই) বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “বিএমই বিটস ২০২৫”। গত ৯ই জুলাই(বুধবার) থেকে শুরু হওয়া দুইদিন ব্যাপী এ উৎসবের আজ ছিল সমাপণী দিন।

অনুষ্ঠানটির প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন অন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণে বেশ জমজমাট হয়ে উঠে এ উৎসব।

অনুষ্ঠানটির দ্বিতীয় দিন শুরু হয় র‍্যালির মাধ্যমে। বিএমই বিভাগ থেকে শুরু হওয়া এ বর্ণাঢ্য র‍্যালি মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। এরপর কেক কাটার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। 

চুয়েট কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং চিকিৎসাবিদ্যা ও প্রকৌশলের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে। এ শাখায় প্রকৌশল জ্ঞানের ব্যবহার করে চিকিৎসাক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান, রোগ নির্ণয় পদ্ধতির উন্নয়ন, আর্টিফিশিয়াল প্রস্থেটিকস ডিজাইন, এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব। দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও সুসংগঠিত করতে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আমি বিশ্বাস করি, চুয়েটের বিএমই বিভাগ ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণায় আরও বড় অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম, এবং এপিক হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এস. এম. লোকমান কবির। সভাপতিত্ব করেন বিএমই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নিপু কুমার দাশ।

উক্ত অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন বাবু জানান, অতি আনন্দের সাথে জানাতে চাই চুয়েট বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট তাদের প্রথম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান সফল ভাবে সম্পন্ন করে। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট প্রধান অধ্যাপক ড. নিপু কুমার দাশ স্যারকে অনেক ধন্যবাদ এইরকম প্রোগ্রাম আয়োজনের জন্য। প্রোগ্রামটির সাফল্যের জন্য আমি সকল শিক্ষকদের মন থেকে জানাই আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ। তাদের সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহনেই ছিলো আমাদের “বিএমই বিটস” আয়োজনের স্বার্থকতা।
দুইদিনব্যাপী এই আয়োজনে আমরা আইডিয়া কন্টেস্ট ও বায়ো অলিম্পিয়াড এর মতো প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের একটা সুন্দর মুহুর্ত উপহার দিতে পেরেছি বলে বিশ্বাস করি।
আশা রাখবো আগামী দিনেও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট শিক্ষার্থীদের তৈরি করবে ভবিষ্যতের জন্য।

অতিথিদের বক্তব্য ছাড়াও অনুষ্ঠানে আয়োজিত হয় এক বিশেষ সেমিনার। বায়োমেডিকেল ইমেজিং ও সেন্সিং-এর নতুন প্রযুক্তিতে ফোটোনিকসের ব্যবহার সংক্রান্ত এ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী তানভীর আহমেদ। 

উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব নামক এক নতুন ক্লাবেরও যাত্রা শুরু হয়। পাশাপাশি বিএমই বিভাগের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে  উক্ত বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদায়ী ব্যাচের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী হাফসা খান ত্রিনা, আরিফা তানজিম ও জোবায়ের বিল্লাহ অর্নব।

উক্ত আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল পার্টিক্যালস বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ডেসকো।