ইবাদ হোসেন:
মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার প্রত্যয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ২০২৫। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে গ্রীন ফর পিস, চুয়েট, সহযোগিতায় রয়েছে সন্ধানী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ইউনিট।
সকাল ১০ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করেন ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজি, চুয়েটের পরিচালক ও গ্রীন ফর পিস সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ। উক্ত সংগঠনের আমন্ত্রণে ও চুয়েট প্রশাসন প্রদত্ত অ্যাম্বুলেন্স সুবিধায় সন্ধানী চমেক ইউনিটের ৬ জন সদস্য এই রক্ত সংগ্রহে চুয়েট মেডিকেল কেন্দ্রে আসেন। বিকাল ৩ টা পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। জন প্রতি ৪০০ মি.লি রক্ত সংগ্রহ করে জমা করা হয় সন্ধানী রক্ত সংরক্ষণাগারে।
কার্যক্রম সম্পর্কে গ্রীন ফর পিসের সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ সারথি সরকার চুয়েটনিউজ২৪কে জানান,”বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। একই সঙ্গে এই দিন আমাদের মানবতার সেবায় আরও বেশি করে এগিয়ে আসার প্রেরণা জোগায়। তাই প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমরা এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।আমরা অনেক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। সামনের দিনগুলোতেও আমরা এই রক্তদান কর্মসূচির মতো মহৎ কাজের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে চাই।”
রক্তদান শেষে চুয়েট তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাদী আলী সাইফ জানান,”এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতোন স্বেচ্ছায় রক্ত দান করলাম। তবে চুয়েটে আমার এটা প্রথম বার রক্তদান। ভোগান্তিবিহীন এরকম মহৎ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গ্রীন ফর পিসকে ধন্যবাদ।”
রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রমে আসা সন্ধানী চমেক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মেহজাবিন বিনতে হাই বলেন,”রক্তদান করলে দৈনন্দিন কাজে কোনো ধরনের ক্ষতি হয় না, কারণ প্রতি চার মাস অন্তর লোহিত রক্তকণিকা নতুনভাবে তৈরি হয়। নিয়মিত রক্তদানের ফলে মানুষের মধ্যে রক্ত নিয়ে থাকা ভয় ও দ্বিধা দূর হয়।গ্রীন ফর পীসে কল্যাণে আশা করি চুয়েট শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীরা রক্তদানে উদ্বুদ্ধ হবে।
“
উল্লেখ্য,রক্তদাতাদের রক্তদানের পাশাপাশি বিনামূল্যে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা,রক্তচাপ পরিমাপ,ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়,বিবিএস পরীক্ষা, মালেরিয়া পরীক্ষা,হেপাটাইটিস-বি পরীক্ষা ইত্যাদি স্বাস্থ্য সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।রক্তদান শেষে প্রত্যেককে একটি করে রক্তদাতা কার্ড ও তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূরীকরণে চিকিৎসকদের পরামর্শে জুস ও আপেল সরবরাহ করা হয়।