গোলাম মোস্তফা তানিম:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের চার শিক্ষার্থীর একটি গবেষণা প্রকল্প আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যাশরেই (আমেরিকান সোসাইটি অব হিটিং, রেফ্রিজারেটিং অ্যান্ড এয়ার-কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ার্স) এর স্নাতক পর্যায়ের যন্ত্রপাতি অনুদান কর্মসূচি থেকে অনুদান পেয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় তাদের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য চলতি বছরে ২,০৫০ মার্কিন ডলার প্রদান করা হয়েছে।
অ্যাশরেই একটি আন্তর্জাতিক পেশাদার সংগঠন, যা মূলত হিটিং, ভেন্টিলেশন, এয়ার কন্ডিশনিং এবং রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তির উন্নয়ন, মান নির্ধারণ ও গবেষণার কাজ করে। তাদের Undergraduate Equipment Grant Program-এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও ল্যাবভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন করা হয়।
অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্পটি হলো ‘মাল্টি-লেয়ার ফিক্সড-বেড ডেসিক্যান্ট ডিহিউমিডিফায়ার ইউজিং রাইস হাস্ক অ্যাশ’। যার মাধ্যমে ধানের খোসার ছাই ব্যবহার করে বহু-স্তরবিশিষ্ট স্থির বেডের একটি আর্দ্রতা অপসারণকারী যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে ।প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড.সজল চন্দ্র বণিক। এতে সংযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের অর্ণব সাহা, মো: রেজওয়ানুল আবেদীন তৌফিক, মীর মোস্তফা তাহমিদ এবং অরুণাভ ভট্টাচার্য।
অধ্যাপক ড.সজল চন্দ্র বণিক জানান, “আমাদের ডিপার্টমেন্টের ছেলেরা প্রথমবারের অ্যাশরেই এবং চুয়েট এর পক্ষ থেকে এই গ্র্যান্ট অর্জন করে তার জন্য আমি গর্বিত। আশা করি, তার পরের ব্যাচ থেকে এই ধারা অব্যাহত থাকবে এবং আরো ভালোভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়েট এবং মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে তুলে ধরবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
গবেষণা দলের সদস্য অর্ণব সাহা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “এরকম একটা মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আয়োজনে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে এতবড় সাফল্য সত্যিই অনেক গর্বের। বিভিন্ন দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই কার্যক্রমে অংশ নেয়, এবং কর্তৃপক্ষ সেরা প্রকল্প বাছাই করে অর্থায়ন করে। গত বছর বুয়েট থেকে দুটি দলই অনুদান পেয়েছিল, এবার আমরাও সেই কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছি। আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই অ্যাশরেই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার,চুয়েট-এর সভাপতি শাহারিয়া ইসলাম স্বপ্ন ভাই এবং সাধারণ সম্পাদক অনীশ দেব তুর্য্য ভাইকে । তাদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। সংগঠনটি নবগঠিত হলেও অল্প সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য দেখিয়ে চলেছে। এই ধারা অব্যাহত রেখে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও যেন এর সুফল ভোগ করতে পারে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তারা জানান, অনেক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগারে নির্দিষ্ট মাত্রার আর্দ্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্দ্রতা বেশি বা কম হলে অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফল সঠিক হয় না। এই সমস্যার সমাধানে তারা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করছেন, যা বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় নিয়ে আসতে সক্ষম।
তাদের তৈরি যন্ত্রে আর্দ্র বাতাস প্রবেশ করলে সেটি ভেতরের বিশেষ উপাদানের মাধ্যমে পানির বাষ্প শোষণ করে নেবে, ফলে তুলনামূলক শুষ্ক বাতাস পাওয়া যাবে। সাধারণত শিল্পকারখানায় এই কাজটি করতে ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা এর একটি স্বল্প-খরচের বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন। এ প্রকল্পে আর্দ্রতা শোষণকারী উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ধানের খোসার ছাই। এতে থাকা উচ্চমাত্রার সিলিকা বাতাসের আর্দ্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম।