কাগজে কলমে হল বহিস্কৃত; বাস্তবে চলে অবাধ বিচরণ

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্ক:

মাদক সেবন, র‍্যাগিং, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন বা ছাত্রলীগের হয়ে ক্যাম্পাসে জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে সম্প্রতি সময়ে অনেক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বহিষ্কার করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) প্রশাসন। কাউকে সাময়িক আবার কাউকে আজীবন, বিভিন্ন মেয়াদে গত ৬ মাসে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে মোট ৪৬ জন চুয়েট শিক্ষার্থী। এর মধ্যে গত ১৭ মার্চ মাদক সেবনের অভিযোগে ৮ জনকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী একই অভিযোগে আরো ৪ জনকে, পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে ২৭ ফেব্রুয়ারী ৪ জনকে, র‍্যাগিং এর অভিযোগে গত ১১ ডিসেম্বর ১১ জনকে ও ছাত্রলীগের হয়ে জনস্বার্থ বিরোধী কাজে সম্পৃক্ত থাকায় গত ০৬ ফেব্রুয়ারী ১৯ জনকে বহিষ্কার করে চুয়েট প্রশাসন।

তবে অভিযোগ উঠেছে, বহিষ্কৃত হলেও দিব্যি আবাসিক হলে অবস্থান করছেন এদের অধিকাংশই। অথচ প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে লিখা, বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় তারা কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবে না। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশকে অনেকটা বুড়ো আঙুল দেখিয়েই নিজ আসনে থাকা থেকে হল ডাইনিং এ নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত, সব ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন অনেক বহিষ্কৃতরা।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তারা হলে থাকার ব্যাপারটি অস্বীকার করেন। তারা জানান, হয়ত জিনিসপত্র আনতে বা বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ এসব কারণেই হলে যাওয়া হয়, তবে কেউই হলে নিজের আসনে অবস্থান করেন না।

চুয়েটের পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আহসান সিয়ামের কাছে তার হলে থাকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি চুয়েটের বাইরে বাসা নিয়ে থাকি। তবে হলে অনেক জিনিসপত্র থাকে। এগুলা নেওয়ার জন্যে মাঝে মধ্যে হলে যাওয়া হয়। তবে হলে আমার থাকা হয় না।

বহিষ্কৃতদের আরেকজন, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী জি.এম নাফিজ ইমতিয়াজ শামীনকে জিজ্ঞেস করলে তিনিও হলে থাকার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আমার রুমে অন্য আরেকজনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমি এখন হলে থাকি না। চুয়েটের বাইরে বাসা নিয়ে থাকি।

চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুল ইসলাম তামিমের কাছে তার অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আসলে আমার কিছু জিনিসপত্র থাকায় হলে আসা যাওয়া করি। আর এখন পরীক্ষাও চলছে। স্যারের সাথেও আলাপ করার চেষ্টা করেছিলাম। স্যার কিছু জানান নি এখনো।

হল বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা তাদের হলে থাকার কথা অস্বীকার করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, তাদের হলে থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়।

হল বহিষ্কৃতদের হলে থাকা নিয়ে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ৪র্থ বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থী আবু মাহদী চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শাস্তি দেওয়া হয় তা থেকে শিক্ষা গ্রহনের জন্য৷ হল বহিষ্কার ও ঠিক তেমনি একটি শাস্তি। কিন্তু যদি বহিষ্কারের আদেশের পরও হলে থাকা যায়, তাহলে এটা শাস্তি নয়, বরং টাকা পয়সা ছাড়াই হলে থাকার বন্দোবস্ত করে দেওয়া। বহিষ্কৃতদের অনেকেই এভাবেই এখনো হলে অবস্থান করে। প্রশাসনে উচিত শাস্তি দেয়ার পর তা কার্যকর হয় কিনা সেই ব্যাপারেও নজর দেওয়া।

এ ব্যাপারে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো: মুক্তার হোসাইনের কাছে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সাময়িকভাবে আমাদের ভিজিল্যান্স বন্ধ ছিল। তবে উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশক্রমে কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা আবার তদারকি শুরু করবো। যারা হল বহিষ্কৃত, তাদের হলে পাওয়া গেলে প্রশাসন থেকে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও শিক্ষার্থীরা হলে থাকলে প্রশাসনের দেওয়া শাস্তির কার্যকারিতা হ্রাস পাবে বলে মনে করেন চুয়েটের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।