চুয়েটনিউজ২৪ডেস্ক:
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থা গড়িয়েছে ৩৬ দিনে। গত রোববার রাতে এক বিবৃতিতে বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে একই দিন দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজেদের মতো করে নির্ধারণ করবে।
তবে বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন অধিকাংশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। চুয়েটের স্নাতক পর্যায়ের ১২ বিভাগের মধ্যে ১১টি বিভাগের প্রধানদের সাথে কথা বলে এমনটি-ই জানা গেছে। অন্যদিকে ১টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর বলেন, এখনো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন পাননি তিনি। শিক্ষার্থীরা কোর্স সমন্বয়কের মাধ্যমে আবেদন করলে তা বিবেচনা করে ক্লাস শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের বিভাগ ক্লাস নেওয়ার জন্য শতভাগ প্রস্তুত আছে। চতুর্থ বর্ষ কাল থেকে ক্লাস শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা রবিবার থেকে ক্লাস শুরু করার ব্যাপারে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে।’
যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, ‘অনেকে দূর-দূরান্তে আছে, তাই তাদের আসার জন্য সময় দিতে হচ্ছে। আমি বলেছি, তোমরা মঙ্গলবার আসো, আমরা বুধবার থেকে শুরু করতে চাই। দুই-একজনের কিছুটা দ্বিধা থাকলেও অধিকাংশই বুধবার থেকে ক্লাসে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আমরা এমনিতেই পিছিয়ে পড়েছি, তাই আপাতত ক্লাস শুরু করতে চাই।’
পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক বলেন, ক্লাস করার জন্য শিক্ষার্থীদের ডাকা হয়েছে। তাঁরা উপস্থিত হলে ক্লাস নেওয়া হবে। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ই-মেইলের মাধ্যমে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা জানিয়েছে। তবে অন্য ব্যাচগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি গত দুই দিন ধরে ছুটিতে আছি, তাই এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে জানাতে পারছি না। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা রবিবার থেকে ক্লাস শুরু করবে। তবে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে আগামীকাল থেকেই ক্লাস শুরু করার জন্য প্রস্তুতি আছে।’
পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম জানান, ক্লাস শুরুর ব্যাপারে বিভাগের প্রস্তুতি রয়েছে।
বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নিপু কুমার দাশ জানান,’আমাদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বুধবার থেকে ক্লাস শুরু করবে। তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা, তারা আগামী সপ্তাহে পরীক্ষা দিতে চায়। অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরা রবিবার থেকে ক্লাস শুরু করবে। ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিভাগের যথাযথ প্রস্তুতি রয়েছে।’
মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রসেনজিৎ দাশ জানান, তাঁদের বিভাগে ২২ ব্যাচের একটি গ্রুপ বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর আবেদন করেছে। অন্যদিকে, প্রথম বর্ষের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার থেকে ক্লাসে ফেরার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া ২১ ব্যাচের পরীক্ষা চলছিল।
বস্তু ও ধাতব কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ জানান, এই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা রয়েছে। অন্য ব্যাচগুলো আগামী রোববার থেকে ক্লাস শুরুর বিষয়ে আবেদনপত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে।
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা জানান, বুধবার থেকে সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে।
স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সজল চৌধুরী জানান তিনি ছুটিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে, তাঁদের বিভাগ সেটিই অনুসরণ করবে। বুধবার থেকে ক্লাস শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাননি তিনি। তবে সকল বিভাগ ক্লাস শুরু করলে স্থাপত্য বিভাগও ক্লাস শুরু করবে।
এ বিষয়ে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোছাঃ ফারজানা রহমান জুথীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
এদিকে চুয়েটের চলমান সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বুধবার ইউজিসির গঠিত পরামর্শক কমিটি সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।