শাটডাউন তুললেও উপাচার্য ভবনে তালা থাকবে বলে জানিয়েছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা

মো. মিসবাহ উদ্দিন:

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে অবশেষে শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ তুললেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্যের প্রতি পূর্ণাঙ্গ অসহযোগ বজায় রেখেই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংগঠনগুলো।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে ক্লাসে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টিতে সহযোগিতা চান শিক্ষার্থীরা। চিঠিতে তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এই ক্ষতি এড়াতে তাঁরা ক্লাসে ফিরতে চান, তবে একে আন্দোলন থেকে সরে আসা ভাবার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে রবিবার সকালে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে সাধারণ সভা এবং পরে কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সঙ্গে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। এতে স্পষ্ট করা হয়, নবনিযুক্ত উপাচার্যের যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও অসহযোগ কঠোরভাবে বহাল রেখেই শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একাডেমিক কার্যক্রমে সহায়তা করবেন। এ ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রধান ফটক বন্ধ রেখে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইউজিসির ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন এবং অভ্যন্তরীণ সদস্যদের বাদ দিয়ে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা ডাকার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষকেরা।

শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে ক্লাস শুরুর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগীয় প্রধান ও ইনস্টিটিউট পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, "আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চায় বলে তাঁরা জানিয়েছেন। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।"

এদিকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করলেও উপাচার্য ভবনের তালা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

এ বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাঈন মিহাদ বলেন, "দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। তবে ক্লাসে ফেরা মানে আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়। সায়েম স্যারের পুনর্বহালের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা সংঘাত নয়, সংকটের সম্মানজনক সমাধান চাই। শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং আশা করি, আমাদের শিক্ষাজীবন সচল রাখার পাশাপাশি দাবির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।"

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করে আসছেন চুয়েটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।