চুয়েটের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের অবসর গ্রহন; বিদায়ে আবেগঘন পুরকৌশল বিভাগ

আসহাব লাবিব:

অবসর গ্রহন করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য, পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম। দীর্ঘ ৪২ বছরের কর্মজীবন শেষে তিনি আজ তার শেষ কর্মদিবস সম্পন্ন করেন। তার সম্মানে আজ ২৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) চুয়েটের একাডেমিক ভবন-১ এর সেমিনার কক্ষে পুরকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে পুরকৌশল বিভাগের বিদায়ী অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলমের পাশাপাশি চুয়েটের পুর ও পরিবেশ কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো: আসিফুল হক, পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো: রিয়াজ আকতার মল্লিক সহ পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘদিনের কর্মনিষ্ঠা, নেতৃত্ব ও চুয়েটের জন্য তার অসামান্য অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও তার সাথে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতিগুলো সবার সামনে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকরা ব্যক্ত করেন, বিদায়ী জাহাঙ্গীর আলম একজন দূরদর্শী ও বিচক্ষণ কর্মজীবী ছিলেন। তিনি তার কর্মজীবনে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসন তিন ক্ষেত্রেই সমানভাবে পারদর্শী ছিলেন। তারা আরো জানান, চুয়েটের জন্য তার ভাবনা ছিল ব্যাতিক্রমধর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে চলমান ৩৬৩ কোটি টাকার প্রকল্প উনারই পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ফসল। তার চিন্তা চেতনা, শেখানো পদ্ধতি এখনো তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি যোগায় বলেও প্রকাশ করেন তারা।

পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিয়াজ আক্তার মল্লিক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, স্যারের কর্মজীবন থেকে আমরা সকলেই শিক্ষা গ্রহন করেছি। স্যারের সাথে আমার বেশ কিছু জায়গায় ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। বিভাগীয় সম্পর্কের বাইরেও স্যারের সাথে যে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তা সত্যিই চমৎকার। আমরা সকলেই স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

বিদায়কালে অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি কখনোই ভাবিনি এতো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমার বিদায় হবে। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আনুষ্ঠানিক বিদায় হলেও আমাকে ডাকলে আমি অবশ্যই চুয়েটে আসার চেষ্টা করব। এই বিভাগ, এই ক্যাম্পাসের সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আমি সকলের কাছেই দোয়াপ্রার্থী।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম তৎকালীন চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পুরকৌশল বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে

১৯৮৪ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমান চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি দেশের তিনটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চুয়েটে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে ২০১৯-২০২৩ সাল, ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ২০২৩-২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি উপাচার্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যাপক জাহাঙ্গীর বর্তমানে জিকা ও এইচবিআরআই প্রকল্পের যুগ্ম সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান এবং রাজউকের আইকনিক টাওয়ার প্রকল্পের কারিগরি কমিটির সদস্য হিসেবেও নিয়োজিত আছেন। তিনি তার গবেষণার জীবনে ৭০ টিরও বেশি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ২০১৭ সালে তিনি ভূমিকম্প প্রতিরোধক ভবন সংক্রান্ত একটি বই প্রকাশ করেন যা জার্মান প্রকাশনা থেকে প্রকাশ করা হয়। তার ৪২ বছরের কর্মজীবনে তিনি অনেক পুরষ্কার, পদক ও সম্মাননাও লাভ করেন। সবমিলিয়ে তিনি চুয়েটকে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিত্ব ছিলেন বলে মনে করেন তার অনুরাগীরা।

তার সম্মানে আয়োজিত বিদায়ী অনুষ্ঠানের শেষে তাঁকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং লাল গালিচা ও ফুলের মাধ্যমে তাকে সম্মানিত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *