আকিফা মনজুর :
চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে “ওয়ার্ল্ড টাউন প্ল্যানিং ডে -২০২৫” পালিত হয়েছে। আজ ২০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) এই দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস ২০২৫ এর মূল প্রতিপাদ্য “টুগেদার ফর সাস্টেনেবল সিটিজ এন্ড কমিউনিটিজ” এর সাথে মিল রেখে চুয়েটে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা”।
আজ, সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী র্যালীর মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে উক্ত বিভাগের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এরপর বেলা ১১ টায় চুয়েটের উপাচার্য ও বিশেষ অতিথিবৃন্দের উপস্থিতিতে বেলুন ও পায়রা ওড়ানোর মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর বেলা ১১ টায় চিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় যেখানে উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীদের সর্বমোট ৫০ টি গবেষণা প্রদর্শন করা হয়।
তারপর, সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে আয়োজন করা হয় আলোচনা অনুষ্ঠানের ।উক্ত আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন ড. মো: রাশিদুল হাসান, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স এর উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ড. আক্তার মাহমুদ, সেভ দ্যা চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল এর পোর্টফোলিও ম্যানেজার এনিকা লফ, সেভ দ্যা চিলড্রেন বাংলাদেশ এর পরিচালক মোস্তাক হোসাইন, চট্টগ্রাম মাস্টার প্ল্যান প্রজেক্টের পরিচালক ও পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন এর সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক পরিচালক মিস নাসিম বানু শ্যামলী। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা।
উক্ত আয়োজন সম্পর্কে চুয়েট এর উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সময়ের আগে প্রস্তুতি নেওয়াই টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করবে। ইউআরপি বিভাগের নিরলস কাজের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নগর নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে এখান থেকেই। বাংলাদেশ গড়ার পরবর্তী ধাপ নেতৃত্ব দেবে পরিকল্পনা-সচেতন, প্রযুক্তি-দক্ষ ও মানবকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনাকারীরাই।”
স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদ এর ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ রাশিদুল হাসান তার বক্তব্যে বলেন, “চুয়েট ইউ আরপি বিভাগের সাথে ইপসা ও সেভ দ্যা চিলড্রেন এর সহায়তায় আজকের অনুষ্ঠান আয়োজন করে আমরা সত্যি আনন্দিত। আমাদের সাথে বি আই পি এর মতো জাতীয় ও জার্মান ফরেন ফেডারেল অফিস এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠন যুক্ত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরণের অনুষ্ঠান আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে ও কর্মক্ষেত্রে আরো আত্মবিশ্বাসী করবে বলে আশা করছি।”
এ আয়োজন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অনুভূতি জানতে চাইলে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদ বিন শাহজাহান চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, “ইপসা এর সাথে আজকের এই আয়োজন আমাদের জানান দিতে সাহায্য করেছে যে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমেই আমরা পারি একটি টেকসই ও নিরাপদ শহর গড়ে তুলতে। তাছাড়া বিজ্ঞজন দের সেশন, এক্সিবিশন সহ ইত্যাদি দিকনির্দেশনা মুলক আয়োজনে আমরা সবাই অনেক আনন্দিত।”
আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনার পাশাপাশি পূর্বে আয়োজিত কেস কম্পেটিশন, পোস্টার ডিজাইন, কুইজ ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার ও উপস্থিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
দুপুরের বিরতির পর বেলা ২ টা ৩০ মিনিটে এক পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সেখানে দুর্যোগ সম্ভাবনা হ্রাসকরণ সহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে উপস্থিত বক্তারা প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
সবশেষে সন্ধ্যা ৬ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপনী ঘটে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের। উক্ত আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন, রয়্যাল সিমেন্ট, জার্মান ফেডারেল ফরেইন অফিস। এছাড়াও মিডিয়া সহযোগী হিসেবে ছিলো চ্যানেল ২৪, দৈনিক কালের কন্ঠ ও চুয়েটনিউজ২৪।