নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়েটে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক:

বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল দ্রুত ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টার নবম পে-স্কেল সংক্রান্ত বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের (জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট) আহ্বানে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি বৈষম্যমুক্ত ও বাস্তবসম্মত নবম পে-স্কেল অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে পে-স্কেল সংশোধন না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল স্বাধীনতা চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

প্রতিবাদ সভায় চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকারে যারা আমাদের এই ন্যায্য দাবির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছেন না, আমরা মনে করি তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পে-স্কেল সংশোধনের কথা থাকলেও গত এগারো বছরে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিচ্ছে না। যদি অতিদ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে আমরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হব।”

উল্লেখ্য, প্রায় এক দশক পর জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। এতে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সম্প্রতি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না। প্রতিবাদ সভায় তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকরের দাবি জানানো হয়।