চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শামসেন নাহার খান হলের নারী শিক্ষার্থীরা হলে আরোপিত বিভিন্ন নিয়ম সংস্কারে দাবি উত্থাপন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ ৯ নভেম্বর (রবিবার) দুপুর ২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় তারা “হল নাকি কারাগার”,”বন্ধ হোক অযৌক্তিক ১২০০ টাকার জরিমানা” ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন করেন।
এসময় হলটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর বরাবর ৩ দফা দাবি উত্থাপন করে তা পর্যলোচনার জন্য দরখাস্ত প্রদান করা হয়। দাবিসমূহ হলো- শামসেন নাহার হল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রতি মাসের খাবার টোকেন না কাটার জন্য অত্যাবশ্যকীয় ফি হিসেবে ১২০০ টাকা জরিমানা নেয়ার ব্যাপারটি পুনরায় পর্যালোচনা করা, এক বেলার টোকেন জমাদানের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শীতকালে হলে প্রবেশের সময়সীমা ১ ঘন্টা বাড়ানো।
এ বিষয়ে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী নাবিলা রাইসা বলেন, “প্রতিমাসে ছেলেদের সমান ডাইনিং ফি দিয়েও আমাদেরকে রাতে জঘন্য খাবার দেয়া হয়। আবার হলে টোকেন না কাটলেও ১২০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়। এছাড়াও গ্রীষ্মকাল ও শীতকাল উভয় সময়েই ল্যাব বিকাল ৫ টায় শেষ হলেও, শীতকালে আমাদের হলের দরজা ৭ টায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ গুলো, টিউশন, প্রজেক্ট কিংবা লাইব্রেরি তে পড়ালেখা করতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এভাবে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।”
ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত সাইয়ারা চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে যে পরিমানে জ্যাম থাকে, অনেক সময়ই শহর থেকে টিউশন করিয়ে ৭ টার মধ্যে হলে ফিরে আসা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। সেক্ষেত্রে নয়টা পর্যন্ত শহরে অপেক্ষা করে রাতের বাসে হলে ফিরতে হয়। খাবারের মানের অবস্থা তো খুবই শোচনীয়। গত মাসেও আলুর তরকারিতে নষ্ট আলু পাওয়া গিয়েছিল। আমাদের দাবি সমূহ খুবই যৌক্তিক। এগুলো মেনে নেয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে চুয়েট প্রশাসনের নিকট জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড.মোঃ মাহবুবুল আলম চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সকল সমস্যার কথা ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তর অবগত হয়েছে। এই সমস্যাগুলো সমাধান করার লক্ষ্যে আমরা অতিদ্রুত সকল মেয়েদের হলের প্রভোস্টদের নিয়ে বসবো। আশা করি তাঁদের সমস্যার আশানুরূপ সমাধান পাওয়া যাবে।”
উল্লেখ্য, চুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা প্রদানের জন্য সর্বমোট আটটি হল চালু রয়েছে। তার মধ্যে ছেলেদের জন্য বরাদ্দ পাঁচটি ও মেয়েদের জন্য তিনটি। প্রতিটি হলে রয়েছে ডাইনিং ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া। খাবারের জন্য ক্যাম্পাসের প্রায় সাড়ে তিন হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণরুপে হলের ডাইনিং, ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু মেয়েদের তিনটি হলে ডাইনিং ও ক্যান্টিনের খাবারের মান এবং টোকেন না কাটলে ধার্যকৃত জরিমানা ফি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা।