চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ
চট্টগ্রাম অঞ্চলে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রাম শহড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যার দরুন নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের। চুয়েটের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করেন।
শহর থেকে চুয়েটের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার হওয়ায় এই দুরত্ব পাড়ি দিতে চুয়েট বাসের উপর নির্ভরশীল অধিকাংশ শিক্ষার্থী।এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতায় যাতায়াতের পথে পানি জমে থাকায় শহরে প্রবেশ করতে পারছে না চুয়েটের বাসগুলো। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, চকবাজার, মুরাদপুর, হালিশহর সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অলিগলি পানিতে ডুবে আছে। যার ফলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
গতকাল রোববার(৬ই আগস্ট) রাতে বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পরিবর্তে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। আজ সোমবার সকাল ও বিকেলের বাস ট্রিপগুলো রেলস্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার কথা থাকলেও খুব স্বল্প সময়ের নোটিশে তা পরিবর্তন করে কাপ্তাই রাস্তার মাথা নামক স্থানে শিক্ষার্থীদের নামানো হয় । যার ফলে বাসের অবস্থান ও যাত্রাপথ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ভোগছেন অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শহরের অন্যান্য বাসগুলো একই রুট দিয়ে চলাচল করলেও চুয়েটের বাসগুলো রাস্তায় পানি জমার কারণ দেখিয়ে আর যাচ্ছে না। তবে আজ সোমবার রাস্তায় বৃষ্টির পানি কমেছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। লোকাল বাসগুলো চলতে পারলে চুয়েট বাস কেন চলছে না এমন আক্ষেপ পোষণ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, হালিশহর চট্টগ্রামের অন্যতম নিচু একটা এলাকা, এদিকে চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা রাস্তাঘাট সহ অচল করে দিয়েছে তার সাথে যোগ হয়েছে জোয়ারের পানি৷ এমন অবস্থায় সাধারণ যানবাহন বন্ধ তার উপর চুয়েট কর্তৃক নিয়মিত যাতায়াতের বাস গুলো মাঝ রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার কারণে। সবকিছু মিলিয়ে এমন সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতেও ল্যাবের কুইজ ভাইভা সিটি দেয়ার জন্য স্টুডেন্টদের ভার্সিটি আসতেই হবে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ শিক্ষকদের এই দূর্যোগ সম্পর্কে অবিহিত করলেও তারা কোনো সৎ উত্তর দেন নি৷
পুরকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আজমাঈন দাইয়ান বলেন, আমার বাসা চট্টগ্রাম শহরে। ক্লাস-ল্যাব চলবে তাই এই বৈরি আবহাওয়ায় গতকাল চুয়েটের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই। সিএনজি নিই। তবে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়েও কাপ্তাই রাস্তার মাথা পৌছাইতে পারি নি। পানির কারণে আটকে গেছি। তাই আমি অবশেষে বাধ্য হয়ে বাসায় ফেরত চলে যাই।
এ ব্যাপারে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে ক্লাস–পরীক্ষা পেছানোর সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। এগুলো বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানদের সিদ্ধান্ত। চুয়েটের বাস অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে স্টেশন যেতে পারছে না। তাই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়গুলো ভেবে দেখা যেতে পারে।’
এদিকে চুয়েটের যানবাহন শাখার সেকশন অফিসার মোহাম্মদ শওকত হোসাইন জানান, ভারী বর্ষণে শহরের অনেক জায়গায় পানি জমেছে। জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের বাসগুলো বেশিদুর যেতে পারছে না। বাম্পারে পানি প্রবেশের কারণে বাসের ইঞ্জিন বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে রুট কমাচ্ছি। আমরা শিক্ষার্থীদের কষ্ট বুঝতে পারতেছি, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তা নিরসনের।
দুর্যোগ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আজ সোমবার অনুষ্ঠিতব্য ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২য় বর্ষের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা আগামী ১৬ আগস্ট(বুধবার) গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে চলমান অন্যান্য ব্যাচগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন চুয়েটের রেজিস্ট্রার(অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, চুয়েটে আমাদের একাডেমিক কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ দেয়ার কোন চিন্তা-ভাবনা নাই। তবে যদি পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যায় তখন উপাচার্যের সাথে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিব।
এদিকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে আগামী ৮ আগস্ট তারিখের জন্যে সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তাছাড়া ৮ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সকল ধরণের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।