জেরিন সুলতানাঃ
থার্ড স্মাইল কর্তৃক আয়োজিত চেঞ্জমেকারদের সাথে আলোচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার্সআপ হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এর একটি দল।
টানা দুই সপ্তাহের প্রতিযোগিতার পর গত ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ইং (বৃহস্পতিবার) এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০টি দল অংশগ্রহণ করে। চুয়েটের ৩টি দল অংশগ্রহণ করলেও চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হয় একটি দল।
চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি। চূড়ান্ত পর্বে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চারজন কাউন্সিলর এবং দুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কনসুলেট সোলায়মান আলম শেঠ।
চুয়েটের বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন, যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইয়াসির আফনান, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী উদয় চৌধুরী এবং মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান।
চুয়েটের বিজয়ী দলটি জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানের জন্য একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। চুয়েটের দলটির আইডিয়া অনেক প্রশংসা অর্জন করে এবং ১৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা তাদের করবেন বলে আশ্বাস দেন।
পুরষ্কার হিসেবে চুয়েটের দলটির প্রত্যেকে মেডেল,
একটি দলীয় ট্রফি এবং ২০ হাজার টাকা সম্মানী পেয়েছেন।
আফনান পুরষ্কার প্রাপ্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান নিয়ে কাজ করা যেন স্বপ্নের মত। সব সময় মনে হতো হয়তো ক্ষমতা থাকলে এটা করব ওটা করব, এই প্রতিযোগিতাটি আমাকে সে সুযোগ করে দিয়েছে। পরিশেষে রানার্সআপ হওয়ার থেকেও বেশি খুশি হয়েছি কাউন্সিলর স্যার এর অনুমোদনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি তার জন্যে। নিজেদের সমাধান বাস্তবায়নের জন্য সবটুকু দিতে আমি এবং আমার দল প্রস্তুত।”
জাহিদ বলেন, “চুয়েটে পড়াশোনার সুবিধার্থে চট্টগ্রামে থাকি। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যায় সবার দুর্ভোগ এবং অনেক মানুষের মৃত্যু আমাকে খুব ব্যথিত করেছে। এই প্রতিযোগিতা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমস্যাটির সমাধান নিয়ে আমাদের ধারণাগুলোকে সম্মানিত কাউন্সিলর গণের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে।প্রতিযোগিতার এত দূর পর্যন্ত আসবো এটা আসলে প্রথমে ভাবিনি।আলহামদুলিল্লাহ শেষ পর্যন্ত আমরা প্রথম রানার্স আপ হয়েছি। যার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।”
উদয় বলেন, “অনেকদিন ধরেই জলাবদ্ধতা চট্রগ্রাম নগরীর একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। এতোগুলো প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ২য় স্থান অধীকার করব এটা আসলেই ভাবিনি। তবে তার থেকেও আমাদের সমাধান সকলে এপ্রিসিয়েট করেছে এটাই বেশি ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে এমন প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করার আরো ইচ্ছা রয়েছে।”
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল। তারা কাজ করেছিল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
তারিখ: ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ইং